নছিমনের ওপরে মানুষ, ভেতরে গরু! এভাবে নছিমন চলছে দিনাজপুরের সড়ক-মহাসড়কে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ইঞ্জিনচালিত এ যন্ত্রদানবটির চলাচল নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। বরং ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে নছিমনের ছাদেও তোলা হচ্ছে মানুষ।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নছিমনের ছাদে চড়ে কোরবানি ঈদ উপলক্ষে গরু ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে যাচ্ছেন। নছিমন বা টেম্পোর ভেতরে গরু এবং নড়বড়ে ছাদে গরু ব্যবসায়ীদের যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
দিনাজপুরের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে হরহামেশাই দেখা মিলছে এমন চিত্রের। এভাবে নছিমন-করিমন, টেম্পোতে চলাচল করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোনো উপায় না থাকায় ছাদে চড়ে যেতে বাধ্য হই।
ঝুঁকিপূর্ণভাবে নছিমনের ছাদে করে গরু নিয়ে দিনাজপুর থেকে আমবাড়ি হাটে যাচ্ছেন মো. আফসার আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন মিলে একসঙ্গে ব্যবসা করি। পিকআপ ভ্যানে বা ট্রাকে করে গরু নিয়ে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়। আবার নছিমনে করে আনলে কম খরচে একটি নছিমনের ভেতরে চার পাঁচটা গরু নেওয়া-আনা সম্ভব হয়। নছিমনের ছাদে চড়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এই গরু ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভেতরে গরু থাকলে বসার কোনো জায়গা থাকে না। তাই আমরা ঝুঁকি নিয়েই নছিমন বা টেম্পোর ছাদে চড়ে বিভিন্ন হাটে যাই।’
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অবৈধ নছিমন-করিমনের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর আছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ বসিয়ে তাদের ধরা হচ্ছে।
তবে, দিনাজপুর-ফুলবাড়ী, দিনাজপুর-রংপুর, দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কে দিন-রাত সমানতালে চলতে দেখা গেছে এসব ফিটনেসবিহীন যানবাহনকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (টি.আই) বারী বলেন, ‘নছিমন, করিম, টেম্পো এসব যানবাহন মহাসড়কে দেখলেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেককে জরিমানাসহ শাস্তিও প্রদান করা হচ্ছে।’
