জেদের বশে ভালো কোনো কাজ যে সফলতা আনতে পারে তার প্রমাণ পেয়েছেন মুছা মিয়া। শুরুতে একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন। কিন্তু দমে থাকেননি তিনি। ব্যর্থতার কারণ উদ্ঘাটন করে তিনি কয়েক বছর ধরে গ্রীষ্ম মৌসুমে টমেটো ফলিয়ে সফলতা পেয়েছেন। বর্তমানে উচ্চমূল্যে ওই টমেটো বিক্রি হওয়ায় তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন। মুছা মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়নের শেখের মহল্লায়।
সাত-আট বছর আগের কথা। পার্শ্ববর্তী নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জে এক কৃষকের ক্ষেতে গ্রীষ্মকালে টমেটোর ফলন দেখে তার মনে আগ্রহ জাগে। ওই কৃষকের কাছে সহায়তা চাইলে তিনি নানা কারণ দেখিয়ে নিরুৎসাহিত করেন। এ থেকে এক ধরনের জেদ চেপে বসে মুছা মিয়ার মনে। তিনি টমেটো চাষে নেমে পড়েন। শুরুতে একাধিকবার ব্যর্থ হলেও কয়েক বছর ধরে সফলতার মুখ দেখছেন তিনি।
তার টমেটো বাগান ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা-পাকা অসংখ্য টমেটো ঝুলে আছে গাছের নরম কা-ে। কোনো কোনো গাছে নতুন করে ফুল আসছে।
মুছা মিয়া জানালেন, এপ্রিল মাসে ১৮ শতক জায়গায় এক হাজার টমেটোর গ্রাফটিং চারা রোপণ করেন তিনি। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থেকে বারি-৮ জাতের টমেটোর গ্রাফটিং চারা কিনেছেন প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যে। চারা রোপণের জায়গাটি সারমিশ্রিত করে মাটি উঁচু করে ‘বেড’ তৈরি করা হয়। বৃষ্টির কবল থেকে চারা বাঁচানোর জন্য ওপরে দিতে হয় পলিথিনের ছাউনি। বৃষ্টির পানি যাতে জমে না থাকে সেজন্য জমির পাশে ড্রেন করা হয়েছে। গাছগুলো প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা হয়। মাটিতে যাতে নুইয়ে না পড়ে এজন্য গাছের উচ্চতা অনুযায়ী টানাতে হয় প্লাস্টিকের দড়ি।
জুনের মাঝামাঝিতে জমি থেকে পাকা টমেটো তুলছেন মুছা মিয়া। আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত টমেটো উৎপাদন চলবে বলে জানান তিনি। বর্তমানে ৫০ কেজি করে সপ্তাহে দুদিন ১০০ কেজি টমেটো তুলছেন মুছা মিয়া। ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে টমেটো পাইকারি বিক্রি করছেন। আর খুচরা বাজারে বিক্রেতারা বিক্রি করছেন প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকায়। ১৮ শতক জায়গায় টমেটো উৎপাদনে খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শীতের আগে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করতে পারবেন। তিনি জানান, ভাটি এলাকায় বোরো ফসল তোলার পর কৃষকরা অনেকটা অবসর সময় কাটান। ওই সময়ে বাড়ির পাশে উঁচু জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজির সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন টমোটার চারা রোপণ করলে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।
বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দুলালউদ্দিন বলেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে ভাটি অঞ্চল বানিয়াচংয়ের মতো এলাকায় ব্যাপকভাবে টমেটো চাষ করা খুবই কঠিন ব্যাপার। কিন্তু আমাদের পরামর্শে আর মুছা মিয়ার অধ্যবসায় তাকে এই সফলতা এনে দিয়েছে। আমরা আশা করছি এলাকায় গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অধিক মুনাফা অর্জনে মুছা মিয়ার মতো আরও অনেকেই এই উদ্যোগ নেবেন। গ্রীষ্মকালে টমেটো ফলানোর জন্য আগ্রহী কৃষক বিএডিসি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন। এ জাতের টমেটো সারা বছর ফলানো যায়।
