মশার ওষুধ নিয়ে মেয়র আতিকুল

দুই কোম্পানির কাছে জিম্মি ১৭ কোটি মানুষ

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০১:০৯ এএম

মশার ওষুধ আমদানি করা দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের ১৭ কোটি মানুষ জিম্মি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি (ডিএনসিসি) করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই (ওষুধ আমদানিকারক)

সিন্ডিকেট ভেঙে এখন থেকে নিজেরাই সরাসরি ওষুধ আমদানি করব।’ গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন মেয়র। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমের সাহায্য ও সহযোগিতাও চান তিনি। স্কুল বন্ধ রাখা ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তিন ভাগ করে বিশেষায়িত চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পরামর্শ দেন সম্পাদকরা।

দেশে মশক নিধনের ওষুধ আমদানি করে আসছিল লিমিট অ্যাগ্রো ও নোকন লিমিটেড নামের দুটি প্রতিষ্ঠান। মেয়র বলেন, ‘ওই দুই কোম্পানির জন্য মশার ওষুধের আমদানিকারক ওষুধ আমদানি করতে পারে না। তারা ওই সিস্টেমটাকে ম্যানেজ করে রেখেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরাই ওষুধ নিয়ে আসব। আমদানি করা ওষুধ দিয়ে কীভাবে কাজ করব, সে বিষয়ে আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি ও সরকারসহ বিভিন্ন এজেন্সি কাজ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সমন্বয় করে অবশ্যই কাজ করতে হবে। এখন ৩৬৫ দিন কাজের কোনো বিকল্প নেই। মশক নিধনে আলাদা গবেষণা ও তথ্য সেল তৈরি করতে হবে। আমাদের কথা বলার সময় বিনয়ী হতে হবে। মশক নিধন কর্মীদের জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে।’

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে রক্ষণাত্মক না হয়ে ক্ষমা চাওয়ার অবস্থান নিতে হবে। আপনাদের কোথাও ত্রুটি থাকলে, দুর্বলতা থাকলে স্বীকার করে নিতে হবে। সিটি করপোরেশন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ বিষয়ে গবেষণা সেল থাকা দরকার; স্থায়ী তথ্য সেল থাকা দরকার। নগরবাসীকে বোঝাতে হবে যে সিটি করপোরেশন তাদের পাশে আছে।’

দায় এড়ানো ও অস্বীকার করার প্রবণতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে সারাবাংলাডটনেট সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘দায় এড়ানো এবং অস্বীকার করার প্রবণতা আমাদের এখানেই বেশি দেখা যায়। নাগরিকদের সেবা প্রদানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যত্যয় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কোনো কাজ হতে দেখি না আমরা।’

ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, ‘প্রয়োজনে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তিনটি ভাগে ভাগ করে চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে। যারা প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন, পরবর্তী ধাপে যাদের চিকিৎসা চলছে এবং তৃতীয় ধাপে যারা গুরুতরভাবে আক্রান্ত তাদের চিকিৎসা দেওয়া যেতে পারে।’

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতা হিসেবে স্কুল বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর সম্পাদক জুয়েল মাজহার। তিনি বলেন, ‘স্কুলে ক্লাস করতে আসা কোমলমতি শিশুরা ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা যেতে পারে। এসব স্কুল এবং সিটি করপোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন করা যেতে পারে।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, এবিনিউজ২৪ সম্পাদক সুভাষ সিংহ রায়, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান বার্তা সম্পাদক আনিসুর রহমান প্রমুখ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত