শ্যামপুরে উদ্ধার অস্ত্র-গুলি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

উদ্দেশ্য ছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী কচির ক্যাডারদের হত্যা

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৯, ০৩:৪৭ এএম

গত ১৮ জুলাই রাজধানীর শ্যামপুরে উদ্ধার হওয়া ছয়টি বিদেশি অস্ত্র ও ১২৮ রাউন্ড গুলির গন্তব্য খুঁজতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত ও জিসান গ্রুপের ছয়জন ক্যাডার মোটরসাইকেলযোগে আরেক তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান কচি ওরফে দাদাভাইয়ের অনুসারীদের হত্যার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। মিরপুর থেকে শ্যামপুর পোস্তগোলা আইজি গেটে যাওয়ার পথে সকালে পোস্তগোলা কাঁচাবাজারে পুলিশ চেকপোস্টে তাদের মধ্যে তিনজন ধরা পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশসহ তদন্তকারী সংস্থাগুলোর একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, মাস দেড়েক আগে আইজি গেটে এক ‘ব্যবসায়ী’র সম্পত্তি দখলে যায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান কচির  বাহিনী। পরে ওই ব্যবসায়ীকে না পেয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় তারা। এরপর ‘ব্যবসায়ী’ হামলাকারীদের হত্যার পরিকল্পনা করেন। যোগাযোগ করেন অপরাধজগতের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ মিনহাজুল ইসলাম মিমের সঙ্গে। মিনহাজ যোগাযোগ করে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সঙ্গে। এরপর এ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী একে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেদিন পুলিশ ছয়টি বিদেশি অস্ত্র ও ১২৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে, ওইদিন ভোরে খিলগাঁও এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের সেকেন্ড ইন কমান্ডের কাছে ফোন করে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের সেকেন্ড ইন কমান্ড মিনহাজ। তার আগের দিনও তাদের মধ্যে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ হয়। এরপর তাদের দুজনের নির্দেশনায় তিন মোটরসাইকেলে ছয়জনকে পাঠানো হয় কচি বাহিনীর সদস্যদের খুন করতে। যারা আইজি গেটে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল।’ তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অস্ত্রের সরবরাহকারী ও অস্ত্রের ব্যবহারকারীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলেও কত টাকায় হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। নেপথ্যে থাকা ও পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পারলে এ বিষয়ে জানা যাবে।’

ওয়ারী জোনের এক অতিরিক্ত উপকমিশনার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অস্ত্রের সরবরাহকারী হিসেবে শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত, জিসান ও পুরান ঢাকার ইমু বাহিনীর তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও ইমু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। তবে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার আসামিরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, তারা কাউকে হত্যার উদ্দেশ্যে যায়নি। কাকন নামে একজনের কাছে সেগুলো নিয়ে যাচ্ছিল।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘শ্যামপুর টহল পুলিশের সিগন্যাল অমান্য করে তিনটি মোটরসাইকেল পালিয়ে যাওয়ার সময় ধাওয়া দিয়ে শাহাদাতের অনুসারী সন্ত্রাসী মো. রাজু গাজী (৪৩) ও মো. সাখাওয়াত হোসেন (৩৮) এবং জিসানের সেকেন্ড ইন কমান্ড মিনহাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় কাকন, খোকন ও বাবুল নামে তিনজন পালিয়ে যায়।’

শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অস্ত্র-গুলিসহ তিন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার মামলার তদন্ত করছে থানা পুলিশের দুটি টিম। তারা তদন্তে বেশ এগিয়েছে। এসব অস্ত্র-গুলি ও সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনেছিলেন মিতালী গলির আইজি গেটে বসবাসকারী এক ব্যক্তি। তাকে ধরতে পারলেই সব রহস্য জানা যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত