দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, গত তিন দিনের পর্যবেক্ষণে রোগীর সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সরকার বিনামূল্যে ডেঙ্গুর চিকিৎসা করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন
জেলায় ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞদের পাঠানো হচ্ছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ অন্য কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১৫০-২০০ বেড ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর হার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ সময় মন্ত্রীকে সাংবাদিকরা জানান, ঢামেক হাসপাতালে ১২ জন ও বিএসএমএমইউতে দুজন মারা গেছেন। এর বাইরে ঢাকার অন্যান্য হাসপাতাল ও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অনেকে মারা গেছেন। এ পর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে আরও ভালোভাবে জেনে আমি পরে জানাব।’
জাহিদ মালেক বলেন, বিভিন্ন জেলায় অনেকেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ১৩ সদস্যের ডেঙ্গু বিশেষজ্ঞ একটি টিম বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে। হাজার হাজার রোগী আতঙ্কিত হয়ে হাসপাতালে ছুটছে। এর মধ্যে অনেকের পরীক্ষা না করালেও চলে। অনেকে সুস্থ হয়েও ডেঙ্গু টেস্ট করাতে আসছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সব সময় খোঁজখবর রাখছেন। ডেঙ্গু রোগীদের সব ধরনের টেস্ট ফ্রি করাতে বলেছেন। আমরা ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ফ্রি টেস্ট করাচ্ছি।’
বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসা নিয়ে অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘অনেক বেসরকারি হাসপাতালে অনিয়ম হচ্ছে। সেখানে আমাদের টিম সবসময় খোঁজখবর নিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এখন এ অবস্থায় হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব নয়।’
গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজধানীর পাঁচটি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। সকাল থেকে দিনব্যাপী ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
মন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মেডিকেলে প্রায় ৬০০ জন ডেঙ্গু রোগীর টেস্ট করালে তাদের মধ্যে মাত্র ১৬ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়ে। অন্যদিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩ জন ডেঙ্গু টেস্ট করালেও ডেঙ্গু পজিটিভ ধরা পড়েছে কেবল ৭ জনের। সুতরাং ডেঙ্গু রোগ ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছেÑ এ কথা আমরা পরিসংখ্যান অনুযায়ীই বলতে পারি। ডেঙ্গু রোগীর পর্যাপ্ত বেড না থাকা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘আজকের পাঁচটি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে দেখতে পেলাম যদি সামনে প্রয়োজন হয়, তা হলে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে আরও নতুন ১ হাজার বেড, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ১০০০ বেড, শিশু হাসপাতালেও বেশকিছু নতুন বেড স্থাপন করা যাবে। ইতোমধ্যেই মিটফোর্ডে ১০০, বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নতুন ২০০ বেড বৃদ্ধি করা হয়েছে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের সংকট হলে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
