ডেঙ্গু: সোহরাওয়ার্দী রি-এজেন্ট সংকট, ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ রোগীর পরীক্ষা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৫ পিএম

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরের পরীক্ষার জন্য রি-এজেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। প্যাথলজি বিভাগে ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি পরীক্ষা করতে আসা রোগীদের রিপোর্ট দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ৩০০ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেছে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ। রি-এজেন্ট সংকটের কারণে পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরিতে অতিরিক্ত সময় লাগছে।   

শনিবার রি-এজেন্ট সংকটের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের সহকারী পরিচালক ডা.কে এম মামুন মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে কেমিক্যালের কোন ঘাটতি নেই। যথেষ্ট ওয়ার্ডের ব্যবস্থাও আছে। তবে গত দুই দিন থেকে রি-এজেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। একটা পুরোনো মেশিনের রি-এজেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। অপর একটির রি-এজেন্ট প্রায় শেষের দিকে। এছাড়া অন্য একটা মেশিন সচল থাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই মেশিনটিও অতিরিক্ত চাপে সার্ট ডাউন হলে অনেকটা সমস্যায় পরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্যাথলজি বিভাগে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসার কারণে কিছু লোকবলেরও অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে ২০০ রোগীর পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য আছে, সেখানে ২০০০ রোগীকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। শুক্রবার সারা রাত পরীক্ষা করা হয়। গতকাল রাতে একটা মেশিন সচল থাকায় একটাতেই পরীক্ষা করা হয়েছে। মেশিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ফলে এক ঘণ্টা করে মেশিন বন্ধ রাখা হয়েছে। এবং আজ সকালে রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে পেরেছি।

ডা.কে এম মামুন মোর্শেদ বলেন, ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষার জন্য গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ রোগী পরীক্ষা করানো হয়েছে। এর বিশ পার্সেন্ট এর বেশি রিপোর্ট পজিটিভ আসেনি। প্রতি পাঁচজনে একজন ডেঙ্গু জ্বর ধরা পরেছে। অনেকে সর্দি, কাশি ও শরীর ব্যথা হলে ভয়ে ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষার জন্য আতঙ্কে আসছে হাসপাতালে।

সহকারী পরিচালক বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। ঈদের ছুটিতে অনেকে ঢাকা ছেড়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা যে সামনে বাড়বে না সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। যত দিন বৃষ্টির মৌসুম থাকবে তত দিন ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার ঘটবে। ভবিষ্যতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লে যে সব প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন সেগুলো আমাদের নেওয়া আছে।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানিয়েছে, গত দুই দিনে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত বড়দের চেয়ে শিশুদের সংখ্যা বেশি দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। গত শুক্রবার রোগী ভর্তি ছিল ৭৯ জন। এখন সর্বমোট ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছে ৪২২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ১১৪ জন। মহিলা ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ১৪২ জন এবং শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ১৬৬ জন। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ২১৪১ জন। তার মধ্যে ১৭১৯ জনকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। এই হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।   

হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, গত দুই দিন থেকে মেয়ের শরীর ব্যথা ও হালকা জ্বর। ডেঙ্গুজ্বর নিশ্চিত এর জন্য মেয়েকে নিয়ে গত শুক্রবার সকালে হাসপাতালে আসি। চিকিৎসক সিবিসি ও এনএস-১ পরীক্ষার জন্য বলেন। প্যাথলজি বিভাগ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে শনিবার সকাল ৯টায় আমাকে আসতে বলা হয়। আমি সকাল ১১ টার দিকে এসে রিপোর্ট সংগ্রহ করি। রিপোর্ট ভালো এসেছে মেয়ের ডেঙ্গুজ্বর হয়নি।

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সামনে ভর্তি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর স্ত্রী রাবেয়া বেগমের সঙ্গে কথা হয় তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার চিকিৎসকের পরামর্শে সিবিসি ও এনএস-১ পরীক্ষা করা হয়। ডেঙ্গুজ্বর ধরা পরায় গত বুধবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসকরা ভালো চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তবে কর্তব্যরত কিছু নার্স অবহেলা করছে। প্রয়োজনীয় কাজে তাদের আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।     

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত