আমি তার মতো কোনো মানুষ দেখিনি: বিপুল রায়হান

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৬:২০ পিএম

জহির রায়হান। একাধারে কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন জহির রায়হান। বাংলাদেশের চেতনার সঙ্গে মিশে থাকা এই মানুষটির আজ জন্মদিন। জন্মদিনে জহির রায়হানকে স্মরণ করে ফেসবুকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তার ছেলে বিপুল রায়হান। বিপুল রায়হানের লেখাটি দেশ রূপান্তর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

তাঁকে নিয়ে খুব বেশি কাজ হয়নি। কী কলমে, কী ক্যামেরায়। যৎসামান্য যে কাজগুলো হয়েছে, সেখানে তার সাহিত্য আর সিনেমাই আলোচিত হয়েছে। তুলনায় "ব্যক্তি মানুষ" হিসেবে তিনি বরাবরই আলোচনার ঊর্ধ্বে থেকে গেছেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, "ব্যক্তি মানুষ" হিসেবে তাঁকে নিয়ে আলোচনা করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ভালো সাংবাদিক ছিলেন।

তারও চেয়ে ভালো লেখক ছিলেন।

আরও উঁচু মানের চিত্রনির্মাতা ছিলেন।

তারও চেয়ে উঁচু মানের "ব্যক্তি মানুষ" ছিলেন।

তো এই "ব্যক্তি মানুষ"টিকে নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি আমাদের প্রায় প্রাগৈতিহাসিক সামাজিক বাস্তবতার কারণেই। দুঃখজনক যে, তার ব্যক্তি জীবনের যা কিছু আলোচনা, তাতে "তার একাধিক প্রেম" কিংবা "তার একাধিক বিয়ে"ই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে।

আমি বহুকাল ধরেই অতি সংগোপনে অন্য গবেষকদের মতোই তাঁকে নিয়ে নিবিড় গবেষণা করে চলেছি। তার জীবন ও কাজ দুটো নিয়েই। সময়ে সময়ে পর্যালোচনাও করে দেখছি। এটা আমি করছি নিছক একজন সন্তান হিসেবে পিতাকে আরও গভীরভাবে জানা - বোঝার জন্যে। কাজটি করতে গিয়ে সন্তানের আবেগ নয়; বরং গবেষক, পর্যালোচকের দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রাধান্য দিচ্ছি।

যত এগোচ্ছি ততই মানুষটার দিকে তাকাতে হলে ঘাড় উঁচু করে আকাশের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে হচ্ছে। এ কারণে নয় যে, মানুষটা এখন আকাশের ওপারে কোথাও বিচরণ করে বেড়াচ্ছেন। বরং এ কারণে যে, "ব্যক্তি মানুষ" হিসেবে তিনি নিজেকে আকাশের উচ্চতাতেই নিয়ে গেছেন।

এই স্বল্প পরিসরে আর বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। শুধু এটুকু বলে শেষ করি, আমি তার বড় সন্তান। অর্থাৎ প্রথম স্ত্রীর সন্তান। যেমনটি আগেই বলেছি, আমাদের প্রায় প্রাগৈতিহাসিক সামাজিক বাস্তবতায় এই মানুষটির প্রতি আমার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকার কথা নয়। অথচ এই আমিই বলছি, নিছক আবেগের বশে নয়, বরং একটু বেশিই নির্মোহ দৃষ্টিতে বিবেচনা করেই বলছি, আমার প্রায় পঞ্চান্ন বছরের জীবনে-

আমি তার মতো কোনো মানুষ দেখিনি।

তার মতো কোনো মানুষের কথা শুনিনি।

তার মতো কোনো মানুষের কথা পড়িনি।

তার মতো কোনো মানুষের কথা জানিনি।

কেমন মানুষ ছিলেন তিনি?

তিনি আসলে "মানুষ"ই ছিলেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত