রাতের ডিউটি প্রায় শেষ, সময় তখন ভোর ৫টা। বন্দরনগরীর আগ্রাবাদ আখতারুজ্জামান সেন্টারের সামনে সঙ্গীদের নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ডবলমুরিং থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। হঠাৎ তার চোখে পড়ে, রাস্তার বিপরীত দিকে তিনটি কুকুর কিছু একটা টানাটানি করছে। কৌতূহলী হয়ে ছুটে গিয়ে দেখেন, সেখানে সদ্যোজাত এক শিশু। সে হাত-পা নাড়াচাড়া করে কাঁদছিল। তাকে উদ্ধার করে আগ্রাবাদ হাসপাতালে ছোটেন মোস্তাফিজুর। পরে খুঁজে পান শিশুটির মাকে। গতকাল মঙ্গলবার দুজনকেই চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করান পুলিশের এই সদস্য। বর্তমানে মা ও শিশু হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। শিশুটি সুস্থ আছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
এসআই মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিশুকে উদ্ধারের পর তার মাকে খুঁজে হাসপাতালে নিয়ে আসাটা নিজের কর্তব্য মনে করেছি।’ স্থানীয়রা জানায়, ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন। রাস্তায় থাকেন। নিজের নাম আয়েশা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারেননি তিনি।
সিএমপির সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান বলেন, ‘একজন পুলিশ সদস্য শুধু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন না, জনগণের বন্ধু হিসেবে পুলিশ কাজ করে তার প্রমাণ দিয়েছেন এসআই মোস্তাফিজুর।’ এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ডবলমুরিং থানার এসআই মাসুদুর রহমান আগ্রাবাদ জাদুঘরের সামনে থেকে এক প্রসূতি ও নবজাতককে রাস্তা থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন।
