একটি হত্যা মামলায় প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন করায় নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ শেখ আবদুল আহাদকে এক বছরের জন্য ফৌজদারি মামলার ‘বিচারিক দায়িত্ব থেকে নিবৃত্তের আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে জেলা দায়রা আদালতের ওই আদেশ বাতিল করে নতুন করে অভিযোগ গঠনের শুনানি করতে বলেছে আদালত। এ সংক্রান্ত জারি
করা তিনটি রুল নিষ্পত্তি করে গতকাল বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেয়।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে নড়াইলের ওই দায়রা জজ এক বছর কোনো ফৌজদারি মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করতে পারবেন না। হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
আর মামলার প্রধান আসামি মল্লিক মাজারুল ইসলাম ওরফে মাজাকে দেওয়া জামিন বহাল রাখা হলেও অপ্রয়োজনীয় সময়ের আবেদন করলে তার জামিন বাতিল হবে বলে হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে।
আদালতে আসামি মাজারুলের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন, রবিউল আলম বুদু ও এম সাইফুদ্দিন খোকন। বাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগ গঠন করায় নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ শেখ আবদুল আহাদের বিচারিক ক্ষমতা কেন জব্দ করা হবে নাÑ এ মর্মে গত ৭ জুলাই রুল জারি করে হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের ওই অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে বাদীপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল এ আদেশ দেয় আদালত।
আইনজীবীরা জানান, ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নড়াইলের কালিয়ায় চ-িনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মল্লিক মাজারুল ইসলাম ওরফে মাজাসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলায় গুলিবিদ্ধ ও পরে নিহত হন এনামুল নামে এক যুবক। এ ঘটনায় পরদিন ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে স্থানীয় থানায় মামলা করেন এনামুলের বড় ভাই নাজমুল হুদা।
এজাহার অনুযায়ী সংঘবদ্ধ আক্রমণের সময় প্রধান আসামি মাজারুল নিজে পাইপগান দিয়ে এনামুলকে গুলি করে। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা মাজারুলসহ অন্যদের আসামি করে নড়াইলের সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এরপর নড়াইলের দায়রা আদালতের বিচারক গত ১০ জুন মাজারুলকে বাদ দিয়েই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। এতে বাদী সংক্ষুব্ধ হয়ে বিচারিক আদালতের এই আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত বছরের ২৯ নভেম্বর নড়াইলের বিচারিক আদালত থেকে জামিন পান মাজারুল।
