লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মামার বাড়ি যাওয়ার পথে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে তিন দিন আটক রেখে দল বেঁধে ধর্ষণ করেছে বখাটেরা। গত রবিবার বিকেলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজিব নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
রায়পুর এস এম অজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাদারীপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী (১০), গাজীপুরে মসজিদের মোতওয়াল্লির দ্বারা ছাত্রী (১৩) ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রায়পুরের মেঘনা বাজার এলাকায় ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী মামার বাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় চর ইন্দুরিয়া এলাকার রাজিব (২২), রাকিব (২১) ও হৃদয়সহ (২১) তিন বখাটে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা চর ইন্দুরিয়া মেঘনা বাজার এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে তাকে দল বেঁধে ধর্ষণ করে। ওই ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ঘরে বেঁধে রেখে বখাটেরা পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
রায়পুর থানার ওসি মো. তোতা মিয়া জানান, ধর্ষণের ঘটনায় রাজিব নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যপারে রায়পুর থানায় মামলা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদারীপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ : মাদারীপুর পৌরসভার হরিকুমারিয়া স্টাফ কোয়ার্টারের পেছনে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে গুরুতর অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে সদর মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাত ৮টার দিকে মাদারীপুরের চরমুগরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অন্য এক মেয়েকে দিয়ে ডেকে বাড়ির ছাদে নিয়ে যায় পুরান বাসস্ট্যান্ড এলাকার বখাটে রনি। সেখানে ওড়না দিয়ে মুখ ও হাত বেঁধে ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে সে। এ সময় স্কুলছাত্রীর পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে বাড়ির ছাদে উঠলে পালিয়ে যায় রনি।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা চলছে।
গাজীপুরে নাতিনকে ধর্ষণের অভিযোগ : গাজীপুরে স্থানীয় একটি মসজিদের মোতওয়াল্লির বিরুদ্ধে সম্পর্কে নাতনি এক ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে এবং ছাত্রীটির মায়ের আপন মামা। এ ঘটনায় শনিবার পূবাইল থানায় মামলা হয়েছে।
শিশুটির মা জানান, তিনি ডেকোরেটরে মসলাপাতি বাটার কাজ করেন। স্বামী মুদি দোকানি। শনিবার মেয়েকে ঘরে রেখে তিনি কাজে চলে যান। এ সুযোগে তার মামা ও শিশুটির নানা সামসুল আলম তাকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে বললে মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জামিল আহাম্মেদ রাশেদ জানান, শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সামসুল আলম পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
