সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ ও বাবাহকু’র সম্মেলন

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২৮ পিএম

২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঘ সম্মেলনের ঘোষণায় বলা হয় ২০২২ সাল নাগাদ বাঘের সংখ্যা বর্তমান থেকে দ্বিগুণ করা এবং বাঘের বিচরণ ক্ষেত্রের সার্বিক সুরক্ষা বিধানে সংশ্লিষ্ট দেশ ও রাষ্ট্রসমূহ উপযুক্ত ব্যবস্থা বা কার্যক্রম গ্রহণ করবে। সেই সম্মেলন থেকে প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্ব বাঘ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তও আসে। রয়েল বেঙ্গল টাইগার নামে যার বিশ্বখ্যাতি সেই প্রাণিসম্পদের প্রাণপ্রিয় আবাসভূমি বা বিচরণ ক্ষেত্র জোয়ারভাটা বিধৌত দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বা গরান বনভূমি সুন্দরবন। নানা ধরনের গাছপালার চমৎকার সমারোহ ও বিন্যাস এবং বন্যপ্রাণীর অনন্য সমাবেশে সুন্দরবন চিহ্নিত হয়েছে এক অপরূপ প্রাকৃতিক  নিদর্শন হিসেবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবেও এটি বিবেচিত; এখান থেকে সংগৃহীত হয় নানা কাজে ব্যবহার উপযোগী বনবৃক্ষ, আহরিত হয় প্রচুর পরিমাণ মধু, মোম ও মাছ এবং সে সূত্রে বা উপলক্ষে কয়েক লক্ষ মানুষের হয় কর্মসংস্থান। পরস্পর সংযুক্ত প্রায় ৪০০ নদী-নালা, খালসহ প্রায় ২০০টি ছোট-বড় দ্বীপে ছড়িয়ে আছে প্রাণিসম্পদের এই বিচরণ ক্ষেত্র।

 

আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে সুন্দরবনের মূল আয়তন ছিল প্রায় ১৬ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে সংকুচিত হয়ে এর আয়তন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের সময় সুন্দরবনের দুই-তৃতীয়াংশ পড়েছে এধারে (বর্তমান বাংলাদেশে) বাকিটা ওধারে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। ভারতীয় অংশে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ হেক্টর আয়তন এলাকায় ‘সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প’ গৃহীত হয়। বাংলাদেশে ১৯৯৯ সালের পূর্বে এ জাতীয় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের উদ্যোগে অতিবিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে বাঘ কিংবা বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবসা নিষিদ্ধ করা হয়। এদিকে, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী বাঘের সংখ্যা যেখানে ছিল ৪৫৩টি, ১৯৯৪ সালে এফএও জরিপে তা দাঁড়ায় ৩৬৯টিতে। ২০০৪ সালে ইউএনডিপির হিসাবে তা ৪৪০টি আর এখন বন বিভাগের মতে বাঘের সংখ্যা ৩০০টির নিচে নেমে এসেছে। পক্ষান্তরে ভারতের অংশে (যা আয়তনে বাংলাদেশ অংশের প্রায় অর্ধেক) ১৯৮২ সালে বাঘ ছিল ৩৫৬টি, ১৯৯৩ সালে ৩৭৫টি, ২০০৬ সালে ৪৫৬টি, আর ২০১৫ সালে ভারত সরকারের জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুসারে ভারতে বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৪১১টি। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায় আয়তন, বনায়ন, সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং বাঘ পরিপালনে সচেতনতা ও উদ্যোগে বাংলাদেশ ভারতীয় অংশের তুলনায় প্রচণ্ড-ভাবে পিছিয়ে, অমনোযোগী তো বটেই বরং আত্মঘাতী। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে সুন্দরবনের সন্নিকটে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান করা নিয়ে অনেক তর্কবিতর্ক হচ্ছে। সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এর ফলে ফসলি জমি নষ্ট হবে, ঘরবাড়ি উচ্ছেদ হবে, পরিবেশ বিপন্ন হবে, প্রাণিসম্পদের ক্রমশ বিলুপ্তি আরও ত্বরান্বিত হবে, আর তাতে উপকূলীয় প্রাকৃতিক সুরক্ষা সুন্দরবনসহ অনেক কিছুরই সমূহ ক্ষতি হবে। আরেক পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা মেটাতে এ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, উন্নত কয়লা ব্যবহারসহ অতি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পরিবেশ বিপন্ন হবে না, জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি হবে না ইত্যাদি।

 

এই পরিস্থিতিতে চলুন জেনে নেওয়া যাক, সুন্দরবনের বাসিন্দাদের একটা কাল্পনিক সম্মেলনে সেখানকার পশুপাখিদের চিন্তাভাবনার কথা। নিজেদের সার্বভৌম আবাসভূমি সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় বাঘ, বানর, হরিণ, কুমির (বাবাহকু) সম্প্রদায়ের সাংগঠনিক উদ্যোগে সুন্দরবনের কঁচিখালীতে একটা বিশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্প্রতি। ‘বাবাহকু’র উচ্চকক্ষ ‘বনে জঙ্গলের’ গত অধিবেশনে অধ্যক্ষ শিয়ালেন্দু মামাইয়া এ ব্যাপারে একটি মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনার জন্য জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সুযোগ দিয়েছিলেন। পশু-পাখালি গোত্রের প্রধান শালিকিয়া শালাকান, মৎস্য গোত্রের ইলিশিয়া ইরিত্রা, পোকামাকড় সংঘের প্রতিনিধি তেলা তেলিয়া, সর্প সমিতির সভাপতি গোখুরা গান্ধালিয়া এই মুলতবি প্রস্তাবের ওপরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। প্রবীণ ও বিজ্ঞ সদস্যরা সুন্দরবনের ইতিহাস, অর্থনৈতিক তাৎপর্য এবং এর জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে তাদের জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য পেশ করেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানুষের ভেদবুদ্ধিপ্রসূত সংঘবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে তাদের এ প্রিয় আবাসস্থলের সমূহ সর্বনাশ সাধনের উদ্যোগগুলো নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা সম্মিলিতভাবে এ জাতীয় উদ্যোগ সম্পর্কে কার্যকর গবেষণা ও অনুসন্ধান চালানো এবং ‘বাবাহকু’র পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান জানান। শিয়ালেন্দু মামাইয়া তার রুলিংয়ে এ বিষয়ে সকলকে উত্তেজিত না হয়ে সুচিন্তিতভাবে বিষয়টির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। তিনি তার রুলিংয়ের উপান্তে এটাও বলেন, দামিনী উৎপাদনের জন্য লোকালয়ে বিশাল জায়গা জুড়ে কেন্দ্র স্থাপনের যে উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে সেটি এমন দুটি লোকালয়ের মধ্যে ব্যবসা ভাগাভাগির মাধ্যমে করা হচ্ছে যেখানে সুন্দরবন উভয়েরই চৌহদ্দির মধ্যে পড়ে। তিনি বিষয়টিকে  সে নিরিখে বিচক্ষণতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি মনে করেন, এটিকে এক পক্ষে একটি বিশেষ ভাবধারার কর্মীদের অভিযাত্রায় প্রকৃতি ধ্বংসের প্রতিবাদ; অপর পক্ষে যার যে বিষয়ে জ্ঞান নেই তারও সেই বিষয়ে সাফাই গাওয়ার মতো হাইব্রিড বাগ্যুদ্ধ না চালিয়ে, দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সৃষ্টিকারী এই প্রকল্পটির গ্রহণ-বর্জন বিষয়ে জাতীয় কর্মশালা করে সরাসরি যুক্তিতক্কো করা উচিত। ‘বনে জঙ্গলে’ নামের উচ্চ পরিষদের এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সুন্দরবনের সেরা চিন্তাচৌবাচ্চা ‘ভূগঠন, পঠন ও চিন্তাভাবনা ইনস্টিটিউট’ তথা ‘ভূপচিভাই’-কে একটি গবেষণাপত্র তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয় ‘বাবাহকু’র আত্মস্বার্থ রক্ষা বিভাগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে। প্রতিবেদনের টিওআর ঠিক করে সুন্দরবনের সকল গোত্র থেকে বিদ্বান এবং বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নন এমন গোত্রনিরপেক্ষ ধীরস্থির বুদ্ধিজীবিদের এ কমিটির কাজে সম্পৃক্ত করে প্রয়োজনে কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে একটি ব্যাপক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটি প্রধান নকুলা নাকাইয়া গত সপ্তাহে ‘বাবাহকু’র প্রেসিডিয়াম প্রধান বাঘ সম্প্রদায়ের নেতা সুন্দর মিয়ার দপ্তরে ‘সুন্দরবন স্বার্থরক্ষা ও আত্মরক্ষার আহ্বান : কঁচিখালী ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। মূলত এর ভিত্তিতে হয় এ বিশেষ সম্মেলনটি। 

 

কঁচিখালীতে সুদানিয়া সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের মুখ্য আলোচ্য বিষয়, আকিঞ্চন আহ্বান এবং সেøাগান ছিল ‘সুন্দরবনের সাথে অসুন্দর ব্যবহারে বিরত থাকুন’। গবেষণা অভিসন্ধর্ভের ওপর মুখ্য আলোচক ছিলেন নিখিল বন বাদাড় অনুসন্ধান সংঘের মুখ্য নির্বাহী নকুলেন্দু নাকালিয়া। নকুলেন্দু নাকালিয়া ভূ-তত্ত্ব এবং ভূ-উপরিভাগ অঞ্চলীয় সংস্কার সন্দর্শন সংক্রান্ত বিশ্বে যে তিন জন বিশেষজ্ঞ আছেন তাদের একজন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মনুষ্যসৃষ্ট ষড়যন্ত্র মোকাবিলার পরিস্থিতিপত্র রচনায় তার সুনাম সুবিদিত। বিশ্ব আনুভূমিক সত্তা ও সুঘ্রাণের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি তার আছে। সংবাদ সম্মেলন উপলক্ষে গতকাল  স্থানীয় মিডিয়ায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়। দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য কাজ করে যে সব মিডিয়া তারা কঁচিখালীর এ সম্মেলন সরাসরি সম্প্রচার করে। সম্মেলনের প্রাক্কালে নিখিল বন বাদাড় বাতাস বার্তার সঙ্গে ‘বাবাহকু’র জনসংযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান বিভাগের প্রধান হরিনা হাপান একটি সূচনা সাক্ষাৎকারে সুন্দরবন সুরক্ষার বিষয়টি নির্মোহ অনুধাবনে সকলকে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলাফল হঠাৎ করে ঘটে না। যুগ যুগ ধরে এটি চরম সর্বনাশের পথে যায়। এমন ক্ষতির প্রতিকারের বিষয়টিকে আদৌ  আমলে না নেওয়ার ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের অন্ধ আচরণ  অত্যšত দুঃখজনক।’ হরিনা আরও উল্লেখ করেন, একই বিষয়কে পাশের বাড়িতে যখন বিরূপ ও বেআইনি ঠাহর করা হচ্ছে তখন আরেক বাড়িতে ঘটা করে জেদ করে একই সর্বনাশ সাধন সম্পাদনের প্রতি এই অতি আগ্রহ কেন? আগের শতাব্দীতে একটি বড় গাঙে জল আটকিয়ে ভাটির সকল গাঙে পানিশূন্য করার মাধ্যমে যে বিধবা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তার কুফল এ সুদূর সুন্দরবনেও আমাদের অস্তিত্বের মর্মমূলেও আঘাত হানছে। এখন আবার দামিনী উন্নয়নের নামে সকলের শেষ প্রাকৃতিক রক্ষা সুন্দরবনসহ সম্মানটুকুকে কেড়ে নিতে চাওয়া হচ্ছে।

 

সকাল ১০টায় কঁচিখালীর সুদানিয়া সম্মেলন কেন্দ্রে আসেন ‘বাবাহকু’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের প্রধান, সুন্দরবনের অবিসংবাদিত তেজস্বী সরদার সুন্দর মিয়া। তার একপাশে বসেন নিখিল চিন্তাভাবনা সংঘের অধ্যক্ষ পক্বকেশ প্রখারিয়া প্রখাতা এবং ‘বাবাহকু’র উচ্চ কক্ষ ‘বনে জঙ্গলের’ অধ্যক্ষ শিয়ালেন্দু মামাইয়া। আরেক পাশে ছিলেন তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান বিশিষ্ট জনমত ব্যক্তিত্ব হরিনা হাপান, আরও ছিলন সংবাদ সংস্থা উবিসস (উড়ো বিভ্রান্তিকর সংশয় ও সন্দেহ) এর ব্যুরো প্রধান পারাকিয়া পারাকান। একটু দূরে ভূপচিভাই-এর পক্ষে প্রধান উপস্থাপক হিসেবে নকুলা নাকাইয়া বিশেষ স্টাইলে তাদের গবেষণাপত্র পেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিলেন। মিডিয়ার জন্য বসার যে বিশেষ ব্যবস্থা সেখানে ইতিমধ্যে উপস্থাপনীয় বিষয়ব¯তর সারাৎসার বিলিবণ্টন শেষ। আজকাল প্রতিবেদক ও প্রদায়কদের আগেভাগে সম্মেলনাদির তথ্য কাগজপত্র সবই সরবরাহের চল শুরু হয়েছে। বিজ্ঞ প্রদায়করা যাতে এক ভাষায় এক সুরে গুণকীর্তন রচনা করতে পারেন বাবাহকুর জন ও গণযোগাযোগ দপ্তর থেকে মিডিয়া কর্মীদের এবার একটি নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছেÑ কেউ কোনো অবস্থাতে গোপনে কারও বক্তব্য ধারণ করতে পারবেন না। আর আগেভাগে কোনো বিবৃতি, বচন, ফলাফল, রায়, রচনার কপি হাতে পেলেও প্রকাশ বা প্রচার করা যাবে না। সে সহায়তার লক্ষ্যে এটি একটি সাম্প্রতিক প্রসারিত প্রয়াস। প্রকাশ পেলে ধরে নেওয়া হবে এর পেছনে অপশক্তির বিনিয়োগ রয়েছে, এর মধ্যে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা শুরু করা হবে ইত্যাদি। বলা হয়েছে কেন্দ্রীয়ভাবে যা দেওয়া হবে তাই এদিক ওদিক সামান্য পাল্টিয়ে প্রকাশ করা যাবে। চারদিকে সুনসান নীরবতা! সবাই অধীর আগ্রহেÑ কী বলবেন তাদের নেতা, তাদের দুর্দিনের ত্রাণ কর্তা? সুন্দর মিয়া কারও প্রতি কোনো দোষারোপ কিংবা বিরূপ সমালোচনায় না গিয়ে অত্যন্ত সাবলীল ও বলিষ্ঠ উচ্চারণে বললেন প্রকৃতির সঙ্গে বিরূপ আচরণে যাওয়া মানে হলো গিয়ে নিজের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা। কোনো ঘটনার কারণ নিয়ে কোনো কথা নেই, চিন্তাভাবনা নেই, শুধু ফলাফল নিয়ে টানাটানি। যে কোনো ক্ষতির কারণ কী, কেন ও কীভাবে ক্ষতি হচ্ছে সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে বর্ষীয়ান নেতৃত্ব সকলকে দূরদর্শী হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন বৃহস্পতিবারই সব নয় এরপর শুক্রবার আছে, শনিবার আসবে, রবিবার তো দূরে নয়। সকল দিনকে সমান গুরুত্বে দেখতে হবে। ‘বর্তমান বড় গুরুত্বপূর্ণ’ একথা অস্বীকার না করেও তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ দেখার অভ্যাস না থাকলে বর্তমান ব্যর্থতায় ভরে গেলেও তা দেখা যাবে না। বর্তমানে আমি কী করছি সেটা নিয়ে ভাবনা দরকার। আমাকে কীভাবে দেখা হবে ভবিষ্যতে সে বিবেচনা আমার এখন যদি না থাকে তাহলে হবানে কীভাবে?’ সুন্দর মিয়া তার আসল আঞ্চলিক টানে বলেই চলেছেন  ...    

 

তিনি সকলকে এক শাবক চোরের অর্বপতি হওয়ার খায়েশ স্মরণ করিয়ে দেন। সুন্দরবন যাদের

প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়, যে সুন্দরবন সারা দেশের সকল সৌভাগ্যের শতকরা ২৫ ভাগ সরবরাহ করে সেই সুন্দরবনের সঙ্গে অসুন্দর ব্যবহার তো তাদের দ্বারা সম্ভব। আবেগাপ্লুত সুন্দর মিয়া বলেন, প্রিয় এই আবাসভূমি বা বিচরণ ক্ষেত্র জোয়ারভাটা বিধৌত দুনিয়ার বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বা গরান বনভূমি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত