চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির কথা বিবেচনায় রেখে দিনে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে নতুন একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। যুগোপযোগী এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আর লোডশেডিং থাকবে না। অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চলতি বছর জানুয়ারিতে একনেক সভায় ‘চট্টগ্রাম জোনে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প-২’ পাস হয়। প্রায় ২ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের জুনে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বৃহত্তর চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা দিনে ১৬০০-১৭০০ মেগাওয়াট। ২০৩৫ সালের চাহিদার কথা ভেবে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন সংস্কার করা হচ্ছে। ৩৩ কেভি সক্ষমতার ২৫টি নতুন সাব-স্টেশন স্থাপন ছাড়াও পুরনো ৯টি সাব-স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ৮৭ কিলোমিটার আন্ডারগ্রাউন্ড ডাবল সার্কিট কেব্ল স্থাপন করা হবে। ৮০০ কিলোমিটার ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন ও ৬ হাজার উন্নতমানের ট্রান্সফরমার বসানো হবে।
এসব সাব-স্টেশন নগরের ফৌজদারহাট, পাহাড়তলী, বাড়বকুণ্ড, রামপুর, আগ্রাবাদ, কালুরঘাট, ষোলশহর, স্টেডিয়াম, পাথরঘাটা, মাতারবাড়ী, হালিশহর, খুলশী, বাকলিয়া, হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, পটিয়া বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে স্থাপন করা হবে। কক্সবাজারেও স্থাপন করা হবে সাব-স্টেশন।
পিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহর এলাকার মতো গ্রামেও বিদ্যুৎ নির্ভরতা বাড়ছে। উৎপাদন বাড়লেও সুষ্ঠুভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সরঞ্জাম বা অবকাঠামো তাদের নেই। এজন্য সঞ্চালন লাইন সংস্কারসহ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উন্নয়ন করা জরুরি।
পিডিবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় বড় শিল্পাঞ্চলসহ নানা মেগা উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে। এসব প্রকল্পে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। সেটি মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। বর্তমানে যেসব সঞ্চালন লাইন রয়েছে, সেগুলো পুরনো। চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে লোড ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সঞ্চালন লাইন সংস্কার করা হবে।’
প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও পিডিবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত মাস থেকে আমি পিডি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছি। ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর বিদ্যুৎ নিয়ে আর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষদের চিন্তা করতে হবে না।’
