ছাত্রদলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার ঢাউস হবে না। এবার সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিই গঠন করা হবে। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। কবে নাগাদ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যস্ত সময় পার করছি। এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এখন পর্যন্ত বসতে পারিনি। তবে শিগগিরই আমরা বসব।’
বিএনপির সহযোগী সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যথাক্রমে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হবেন। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাউন্সিলের
ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছেন। পাশাপাশি সভাপতি পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও সাধারণ সম্পাদক পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া জাকির হোসেনের সঙ্গেও কথা বলেছেন।’
তিনি বলেন, গত ৩ জুন ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য ছিল ৭৩৬ জন। তবে এবার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি হবে।
ছাত্রদলের কাউন্সিল পরিচালনার জন্য গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রদলের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করবেন সভাপতি খোকন ও সাধারণ সম্পাদক শ্যামল। তাদের সহযোগিতা করবেন তারেক রহমান। কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে আমাদের কোনো ভূমিকা থাকবে না।’
প্রার্থীদের মধ্যে কারা নতুন কমিটিতে থাকতে পারেন জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাবেক এ নেতা বলেন, ‘কাউন্সিলে যেসব প্রার্থী কাউন্সিলরদের ১০ শতাংশ ভোট পাননি তারা বাদ পড়বেন। বাকিরা কমিটিতে থাকতে পারবেন। কারণ কাউন্সিলের আগে ঘোষিত তফসিলে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। বিবাহিত অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া নেতারাও নতুন কমিটিতে থাকতে পারবেন না।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে পদ পেতে তোড়জোড় শুরু করেছেন কাউন্সিলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা। নির্বাচিত হওয়ার পর গত শনিবার সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের সঙ্গে যান অন্য প্রার্থীরাও। পরদিন ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে। সেখানেও প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি ছিল। গত সোমবার ফের মধুর ক্যান্টিনে যান নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শ্যামল। একই দিন ঢাবির টিএসসিতে ছাত্রলীগের হামলায় মুখে পড়েন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হন ছাত্রদলের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহ নেওয়াজ। গতকাল দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলের ফলাফল মেনে নিয়েছি। সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছি। আশা করছি, দল বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন কমিটি সম্মানজনক পদে রাখবে।’
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় ছাত্রদলের কাউন্সিলের ভোটাভুটি হয়। পরদিন সকালে ফল ঘোষণা করা হয়। কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন ২৮ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৯ জন।
কে কত ভোট পেয়েছেন : সভাপতি প্রার্থী ফজলুর রহমান খোকন-১৮৬, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ-১৭৮, হাফিজুর রহমান-৩৭, মাহমুদুল হাসান বাপ্পী-৩৪, মামুন খান-১০, সাজিদ হোসেন বাবু-৪, মাহমুদ সর্দার-৩, তানভীর রেজা রুবেল-২ ও এরশাদ হোসেন-০ ।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ইকবাল হোসেন শ্যামল-১৩৯, জাকির হোসেন-৭৬, আমিনুর রহমান-৭০, শাহ্ নেওয়াজ-৫৪, সাইফ মাহামুদ জুয়েল-১৬, মশিউর রহমান রনি-৯, ডালিয়া রহমান-৮, তানজিল হাসান-৭, সাদিকুর রহমান সাদিক-৭, আবু তাহের-৩, সাখাওয়াত হোসেন-৩, সিরাজুল ইসলাম-৩ ও মাজেদুল ইসলাম রুমন-২ ভোট পান।
