শরীয়তপুরের নড়িয়া রক্ষা বাঁধের দুই শতাধিক মিটার ধসে গেছে। এতে পদ্মায় বিলীন হয়েছে মসজিদ, পাকা দালান, বসত বাড়িসহ গাছপালা। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নড়িয়া উপজেলার উত্তর কেদারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আশপাশের বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙনকবলিতরা সরিয়ে নিয়েছে অন্তত ৫০টি বাড়ি। গত শুক্রবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার গোলাম মাওলা বলেন, পদ্মার পানি প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। জোয়ারের সময় চলছে। প্রচুর স্রোত থাকায় নড়িয়া রক্ষা বাঁধের উত্তর কেদারপুর এলাকায় ২০৭ মিটার অংশ ধসে গেছে।
উত্তর কেদারপুর এলাকার নার্গিস বেগম বলেন, অনেক টাকা খরচ করে তিনতলা বিল্ডিং করি। গত বছর পদ্মা নদীতে সেই বিল্ডিং ধসে পড়ে। এখন যেখানে থাকছি তাও বৃহস্পতিবার রাতে ধসে পড়েছে। এখন কোথায় যাব?
কেদারপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাফেজ সানাউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর কেদারপুর নড়িয়া রক্ষা বাঁধ ধসে পড়েছে। এতে একটি মসজিদ, পাকা বাড়ি, ফসলি জমিসহ গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখনো থেমে থেমে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়ন্তি রুপা রায় বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের লোকজনদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ডাম্পিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃঞ্চ সরকার জানান, আমরা নিয়মিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করি। কিন্তু এত দিন কোথাও কোনো ফাটল দেখিনি। হঠাৎ উত্তর কেদারপুর নড়িয়া রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। এখন জরুরি ডাম্পিং শুরু করা যায় কি না, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। এখনো থেমে থেমে ভাঙন চলছে।
শুক্রবার সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। এ সময় ভাঙনকবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন তিনি। গত বছর নড়িয়ার আট কিলোমিটারজুড়ে ব্যাপক ভাঙন হয়। এতে ওই এলাকার ৫ হাজার ৮১টি পরিবার হয়ে পড়ে গৃহহীন।
