গাইবান্ধায় আলোচিত শিশু সাদিয়া সুলতানা তৃষা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ১৩ বছর সাজা খেটে এসে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ধর্ষণের ঘটনার পর গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে মেহেদী হাসান মডার্নকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গতকাল রবিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
২০০২ সালের ১৭ জুলাই সাদিয়া সুলতানা তৃষা হত্যার দায়ে মডার্নসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ড দেয় গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ২০০৪ সালে তারা আপিল করলে হাইকোর্টেও একই রায় বহাল থাকে। তবে ২০১২ সালের ৩ জুন আপিল বিভাগ সাজা কমিয়ে
প্রত্যেককে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। কারা নিয়মানুযায়ী ১৩ বছর জেল খেটে সম্প্রতি বের হয় মডার্ন।
এদিকে গাজীপুরে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভাবিকে ধর্ষণচেষ্টা চালিয়েছে দেবর। এ সময় লিঙ্গ কেটে দিয়েছে ভাবি। যশোর বেনাপোলে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
সাজা খেটে বেরিয়েই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ : গাইবান্ধায় শিশু সাদিয়া সুলতানা তৃষা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ১৩ বছর সাজা খেটে এসে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে।
সদর থানার এসআই নওশাদ আলী জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে মেহেদী হাসান মডার্ন ও তার সহযোগী সাব্বির হোসেন বাপ্পী স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে। পরে বোয়ালীবাজার সংলগ্ন একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে নিয়ে ধর্ষণ করে পার্শ্ববর্তী একটি সেতুর ওপর তাকে রেখে যায়।
মেয়েকে না পেয়ে পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সদর থানায় জিডি করেন তার মা। পরে ওইদিনই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মোড় থেকে স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সে আদালতে ধর্ষণের পুরো ঘটনা খুলে বললে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন তার মা।
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মো. মইনুল হক জানান, স্কুলছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় তার পোশাক পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি সাব্বির হোসেন বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সড়ক থেকে তুলে নিয়ে দুই বোনকে ধর্ষণ : গাজীপুরে সড়ক থেকে তুলে নিয়ে দুই বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে শ্রীপুর থানায় মামলা হলে রাতেই পুলিশ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে। তারা হলো শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও পূর্বপাড়া গ্রামের মো. রাজ্জাক ও আজিজুল হক।
থানায় করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সময় দুই বোনকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্জাক ও আজিজুল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে দুই বোন বাড়ি থেকে পাশের বাজারের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় তাদের পথরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রাজ্জাকের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে একটি ঘরে আটকে রেখে দুই বোনকে ধর্ষণ করে রাজ্জাক ও আজিজুল। ধর্ষণের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ (ফেসবুক) ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এজন্য তারা ভয়ে এতদিন মুখ খোলেনি। একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানায়। এরপর শনিবার রাতে থানায় মামলা করা হয়।
শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) তারিকুজ্জামান জানান, জড়িত দুজনকেই গ্রেপ্তার করে রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মেডিকেল টেস্টের জন্য নির্যাতিত দুই বোনকে রবিবার গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভাবিকে ধর্ষণচেষ্টা দেবরের : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ভাবিকে ধর্ষণচেষ্টা চালিয়েছে দেবর। এ সময় লিঙ্গ কেটে দিয়েছে ভাবি। গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার উচিৎপুরা ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া বুরুমদীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দেবর মনির হোসেনকে (৩০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেন জানান, ভাই প্রবাসে থাকার সুযোগ নিয়ে মনির দুই সন্তানের জননীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালাতে থাকে। গত রাতে এ ঘটনার পর ওই নারীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ওই নারী জানান, মনির হোসেন দীর্ঘদিন তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। বাধ্য হয়ে তিনি এ কাজ করেছেন।
আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগের ডা. মনিরুজ্জামান জানান, মনিরের গোপনাঙ্গ দেড় থেকে ২ সেন্টিমিটার কাটা গেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।
বেনাপোলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ছাত্রলীগ নেতার : বেনাপোলের ভবেরবেড় গ্রামে শনিবার রাতে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় গতকাল রবিবার সকালে স্থানীয় কাগজপুকুর গ্রাম থেকে সংগ্রাম হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংগ্রাম গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে এবং বেনাপোল পৌর ছাত্রলীগের সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সংগ্রাম তার সৎবোন ওই স্কুলছাত্রীকে কৌশলে বাড়িতে এনে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। পরে সে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সংগ্রামসহ তিনজনের নামে মামলা করেন।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান জানান, মামলার পর সংগ্রামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
