বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার পলাতক চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। গতকাল রবিবার সকালে তারা বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে। এই চারজনের মধ্যে মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত (১৯) এই মামলার ৩ নম্বর আসামি। বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তিন দিন আগে আদালত তাদের সবার মালামাল জব্দের নির্দেশ দিয়েছিল। রবিবার শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী আসামি মোহাইমিনুলের জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনের জামিন আবেদন
শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমানও অপ্রাপ্তবয়স্ক তিন আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের যশোরের শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন আত্মসমর্পণকারী চারজনের পক্ষেই জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিফাত হত্যা মামলার পলাতক আট অভিযুক্তের মধ্যে চারজন স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।’
এর আগে গত ৩ অক্টোবর রিফাত হত্যা মামলার নিয়মিত ধার্য তারিখে বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী পলাতক আট আসামির মালামাল জব্দের নির্দেশ দেন। দেশব্যাপী আলোচিত এই মামলার চার অভিযুক্ত এখনো পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে একজন ৬ নম্বর আসামি মো. মুসা (২২)। অন্য তিন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক।
গত ১ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় পুলিশ।
এর আগে গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে দুর্বৃত্তরা রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কোপায়। গুরুতর আহত রিফাতকে ওই দিনই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন।
