সাংবাদিকদের দুদক সচিব

ক্যাসিনোতে জড়িত ৪৩ জনের সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:৫৪ এএম

ক্যাসিনো কারবারে জড়িত ৪৩ জনের দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার কমিশনের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িতদের মধ্যে ৪৩ জনের

তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের সম্পদের বিবরণী নেওয়া হচ্ছে। ক্যাসিনোর মাধ্যমে যারা অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সম্পদের আয়ের উৎস যদি সঠিকভাবে না পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা হতে পারে।’

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, যে ৪৩ জনের তথ্য পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেনÑ ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, মমিনুল হক সাঈদ, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, লোকমান হোসেন ভুইয়া, গোলাম কিবরিয়া (জি কে) শামীম, সফিকুল আলম ফিরোজ, কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুর রহমান বকুল, এনামুল হক এনু ভুইয়া এবং রুপন ভুইয়া। এদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরই মধ্যে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে কয়েকজন গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে মালয়েশিয়ায় সম্রাটের ফ্ল্যাট ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। ক্যাসিনো বন্ধে অভিযান শুরুর পর এই কারবারে জড়িত যুবলীগসহ সরকারদলীয় অনেক নেতার নাম আসতে থাকে।

সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক হয় র‌্যাবের একটি দল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) মহাপরিচালকের। ক্যাসিনো কারবারে জড়িতদের বিষয়ে দুদককে বেশ কিছু তথ্য দেয় র‌্যাব ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

অনুসন্ধানে সম্রাটের মালয়েশিয়ার আমপাং তেয়ারাকুণ্ডতে ফ্ল্যাটের তথ্য পেয়েছে দুদক। কর্মকর্তারা জানান, মালয়েশিয়া সরকারের সেকেন্ড হোম প্রকল্পের আওতায় ফ্ল্যাট কেনেন সম্রাট। এছাড়া মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকেও তার লেনদেনের তথ্য রয়েছে। সম্রাট ছাড়াও ক্যাসিনো কারবারে জড়িত ৪২ জনের তথ্য এখন দুদকের অনুসন্ধান টেবিলে। ক্যাসিনোর পাশাপাশি তারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত