শেয়ার লেনদেনের প্রথম দিনেই বসবে সার্কিট ব্রেকার

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:২৬ পিএম

সেকেন্ডারি বাজারের বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নতুন কোম্পানির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার (দর হ্রাস-বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা) আরোপ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এর ফলে এখন থেকে নতুন কোম্পানির লেনদেনের প্রথম দিন থেকেই মূল্য নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি কার্যকর হবে। গতকালের কমিশনের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে নতুন কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের প্রথম দিন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বাড়তে কিংবা কমতে পারবে। দ্বিতীয় দিনও একই হারে সার্কিট ব্রেকার প্রযোজ্য থাকবে। আর লেনদেনের তৃতীয় দিন থেকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক পদ্ধতি কার্যকর থাকবে। এর ফলে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে আসা কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার লেনদেনের প্রথম দিন সর্বোচ্চ ১৫ টাকা বা ৫০ শতাংশ বাড়তে পারবে। পরের দিন ওই শেয়ারের দর সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ টাকা বাড়তে বা কমতে পারবে। তৃতীয় দিন থেকে ওই শেয়ারের ১০ শতাংশ বাড়তে বা কমতে পারবে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর লেনদেনের প্রথম দিন তিন থেকে ছয়গুণ বেশি দরে সেকেন্ডারি বাজারে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। কিন্তু পরবর্তীতে ওই শেয়ার উচ্চমূল্য ধরে রাখতে পারে না। এই প্রক্রিয়ায় প্রাইমারি শেয়ারহোল্ডাররা লাভবান হলেও সেকেন্ডারি বাজারের বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের লোকসানের মুখে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন শেয়ারে সার্কিট ব্রেকার প্রথা আরোপ করল এসইসি। এর আগে নতুন শেয়ারের ক্ষেত্রে লেনদেন শুরুর প্রথম দুই দিন দর সীমা উন্মুক্ত থাকত।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা খুবই ভালো সিদ্ধান্ত হয়েছে। একশ্রেণির বিনিয়োগকারী শুধু আইপিও ও প্লেসমেন্ট শেয়ার বিক্রি করে সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে টাকা নিয়ে যেত। দীর্ঘদিন ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে থাকায় সেকেন্ডারি বাজার রক্তশূন্য হয়ে পড়েছে। এখানে বিনিয়োগকারীর সংকট থাকলেও প্রাইমারি বাজারে উপচে পড়ছে তারা। লেনদেনের শুরুতে সার্কিট ব্রেকার না থাকায় নিম্নমানের অনেক কোম্পানির শেয়ার শুরুতে অতি মূল্যায়িত হয়েছিল। পরে এসব শেয়ারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় অঙ্কের লোকসানে পড়েন। এখন লেনদেনের শুরুতে সার্কিট ব্রেকার থাকায় অতি মূল্যায়ন বন্ধ হবে। আর যদি কোনো কোম্পানির জোর থাকে, তাহলে অবশ্যই এক সময় যৌক্তিক মূল্যে যাবে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর লেনদেন শুরু করা সিলভা ফার্মার ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার দর শুরুতে ৩৮ টাকায় পৌঁছায়। আর গতকাল শেয়ারটি ১৭ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। এ সময় সেকেন্ডারি বাজারের বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫৪ শতাংশ লোকসানে পড়েছেন। বিতর্কিত কোম্পানি কপারটেক কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার দর শুরুতে ৪৪ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হয়। বর্তমানে শেয়ারটির দর ২৬ টাকায় নেমে এসেছে। অ্যাডভেন্ট ফার্মার শেয়ার দর লেনদেনের শুরুতে প্রায় ৪৯ টাকায় উন্নীত হয়, যা এখন ২৭ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। শুধু অভিহিত মূল্যের শেয়ার নয়, প্রিমিয়ামে আসা বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারেও একইভাবে লোকসানে পড়েছেন সেকেন্ডারি বাজারের বিনিয়োগকারীরা।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত