গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আমি সব সময় আহ্বান জানাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হোক। প্রয়োজনে আমার ত্রুটি তুলে ধরুন, তবে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো
টলারেন্স নীতি নিয়ে আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি এবং নিচ্ছি, সেটা সাংবাদিকদের তুলে ধরতে হবে। না হলে আমরা উৎসাহ পাব না।’
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘রূপসী বাংলা’ শীর্ষক জাতীয় ফটো প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্ত্রী বলেন, ‘একজন ভালো সাংবাদিকের কোনো বন্ধু থাকে না। সাংবাদিকদের দৃষ্টি তাদের অমরত্ব দিতে পারে। তারা কঠিনকে ভালোবাসেন। তাদের বৈচিত্র্যময় জীবনে আনন্দের চেয়ে বেদনার মুহূর্ত প্রবল। তাদের অনবদ্য সৃষ্টি অনেক সময় অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দেয় এবং ভবিষ্যতে চলার পথ নির্দেশ করে।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় বেতন-ভাতা পান না বলে অত্যন্ত কষ্টদায়ক জীবন যাপন করেন। তাদের কাজে আমরা কেউ সন্তুষ্ট থাকি না। এ জন্য সাংবাদিকতাকে বলা হয় “থ্যাংকসলেস জব”। প্রশংসাসূচক সংবাদ হলে আমরা খুব খুশি হই, কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনার সংবাদ হলে আমরা খুশি হতে পারি না। অনেক সময় মালিকপক্ষের বিজাতীয় আচরণ সাংবাদিকদের সইতে হয়। তাদের স্বকীয়তা বিকাশের জায়গা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। তবে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গণমাধ্যম সাংবাদিকদের বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘ফটো সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় ঝুঁঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। তবুও নৈপুণ্য ও শৈল্পিকতা দিয়ে নির্মল ও নির্ভেজালভাবে ফটো সাংবাদিকরা তথ্য উপস্থাপন করেন, যা অনেক ক্ষেত্রে রিপোর্টাররাও পারেন না।’
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তাফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনায়েত করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজল হাজরা। ৮ জন পুরস্কারপ্রাপ্ত ফটো জার্নালিস্টের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন মন্ত্রী।
