নরসিংদীতে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে ডাকাতি মামলায় আটক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মো. ইউসুফ মিয়া (৫৪)। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ইউসুফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল ডিবি। তিনি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার জালকুড়ি গ্রামের প্রয়াত আলী হোসেনের ছেলে। ডিবি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর রাতে নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল বাজারে ৫টি স্বর্ণের দোকানসহ ৬টি দোকানে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি হয়। ডাকাতরা ১০৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০০-৩০০ ভরি রুপা ও নগদ ১৮ লাখ টাকা লুট করে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গত বুধবার মাধবদীর বিরামপুর এলাকা থেকে ইউসুফ মিয়া ও রোকসানা বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে ইউসুফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘোড়াশাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও কাইয়ুম নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন ইউসুফ। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে লুট হওয়া স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযানে বের হন ডিবির সদস্যরা। সাহেপ্রতাব এলাকায় পৌঁছালে শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানান ইউসুফ। ব্যথা তীব্র হলে তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কারণে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ইউসুফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। রওনা দেওয়ার পর তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন।
নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘নিহত ইউসুফ ডাকাতির ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে।’
