সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না : প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫১ এএম

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এফিডেভিট শাখার অনিয়ম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সেখানে সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা বসানোর পরও অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল সোমবার আপিল বেঞ্চে একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতি এ হতাশা ব্যক্ত করেন। শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে
জানান, একটি মামলা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের এই বেঞ্চের সোমবারের কার্যতালিকায় ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকার কথা থাকলেও সেটি ৮৯ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। কীভাবে এমন হলো এ নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে জানতে চান তিনি। এ সময় হতাশা ব্যক্ত করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সেখানে সিসি ক্যামেরা বসালাম। কিন্তু সিসি ক্যামেরা বসিয়েও অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। এখন সবাই বাইরে এসে এফিডেভিট করে।’ তখন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অনেকেই মামলার তালিকা ওপর-নিচ করে আর্থিক লাভবান হয়েছে।’ এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের কতিপয় আইনজীবীর প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের অনেক আইনজীবী আদালতে নিয়মিত আসেন না। বেতন বেশি হওয়ার কারণে এমন হচ্ছে। বেতন কম হলে তারা ঠিকই কষ্ট করে আদালতে আসতেন।’ এরপর প্রধান বিচারপতি মামলার ক্রমিক নম্বর পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক আপিল বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মেহেদী হাসানকে তলব করেন। তলবে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি। পরে ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) একটি মামলা শুনানির ৩ নম্বর ক্রমিকে থাকার কথা ছিল। কিন্তু অদৃশ্যভাবে তা ৮৯ নম্বর ক্রমিকে চলে গেছে। কীভাবে এত পেছনে গেল, তা আপিল বিভাগের কাছে জানতে চেয়েছিলাম। তখন প্রধান বিচারপতি ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে তলব করে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চান।’ এ ব্যাপারে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি মহোদয় যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের তলব করতেই পারেন। কেন ওই মামলার ক্রমিক নম্বর এত দূরে চলে গেল, সে বিষয়ে আমি যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে প্রায়ই প্রধান বিচারপতি আমাদের তলব করেন। এটিও তারই অংশ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত