সচিবালয়ের আশপাশে হর্ন বাজালে কারাদণ্ড

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:০২ এএম

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সচিবালয়ের চারপাশের এলাকাকে নীরব জোন (নো হর্ন জোন) ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী নীরব এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনের হর্ন বাজানো নিষেধ। আইন অমান্যকারীরা এক মাস থেকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানায় দণ্ডিত হবেন। ১৭ ডিসেম্বর থেকে সচিবালয় এলাকায় এ আইন কার্যকর হবে।

নীরব জোন কার্যকর করতে গতকাল রবিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক সভা হয়। সভায় জানানো হয়, ১৭ ডিসেম্বর থেকে সচিবালয়ের চারপাশ অর্থাৎ জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকাকে নীরব জোন এলাকা হিসেবে কার্যকর করা হবে। অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোসহ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর অধীনে প্রণীত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী, ‘নীরব জোন’ বলতে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত বা একই জাতীয় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান এবং এর চারদিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাকে বোঝায়। বিধিমালা অনুযায়ী, কেউ এই বিধান লঙ্ঘন করে নীরব এলাকায় যানবাহনের হর্ন বাজালে প্রথমবার সর্বোচ্চ এক মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পরবর্তী অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

গত ২৫ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক সভায় সচিবালয়ের চারপাশের এলাকাকে নীরব জোন হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গতকালের সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, নীরব জোনে হর্ন বাজালে বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা হবে। এ জন্য মোবাইল কোর্ট ও অন্যান্য সংস্থা অভিযান পরিচালনা করবে।

শব্দদূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচারণার জন্য টেলিভিশেনে স্ক্রল, ফেইসবুকে প্রচারণা, মোবাইলে মেসেজ প্রদান, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করাসহ নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়। এ-সম্পর্কে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ‘আমরা সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেব, যাতে তাদের কর্মকর্তাদের গাড়ির চালকরা সচিবালয়ের আশপাশে হর্ন না বাজায়। এ ছাড়া সচিবালয়ের ভেতরেও লিফলেট বিতরণ করা হবে। বাসচালকদের সচেতন করতে মতিঝিল, গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হবে।’ বিষয়টি কার্যকর করতে সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, জনগণ এবং বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত