সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিতর্কিত তালিকা প্রকাশের প্রেক্ষাপটে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা করা হবে। প্রত্যেকটি জেলায় শহীদদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভ করা হবে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পাকিস্তানের এজেন্ট কি না, সেই সন্দেহ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আজকের বাংলাদেশ বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সভার আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম। এতে আমীর খসরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যত তালিকা প্রকাশ করে জনগণের তাতে কোনো আপত্তি নেই। কারণ জনগণ জানে আওয়ামী লীগ এগুলোকে মূলধন করে রাজনীতি করবে। কিন্তু তারা মূল তালিকায় হাত দিচ্ছে না কেন? যারা বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রাণ ত্যাগ করেছেন, তাদের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে– তাদের তালিকা কোথায়? এই তালিকা প্রস্তুত করার পেছনে সরকারের এত ইতস্ততার কারণটা কী?’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি যেদিন ক্ষমতায় আসবে সেদিন শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করবে। শুধু তাই নয়, শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করে প্রত্যেকটি এলাকায় স্তম্ভের মধ্যে তাদের নাম প্রকাশ করবে।’
আওয়ামী লীগের চলমান কাউন্সিলকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আমরা তাদের দল হিসেবে স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে আশা করি, আজকে কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র কীভাবে ফিরিয়ে দেবে, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার কীভাবে ফিরিয়ে দেবে, বাংলাদেশের মানুষের কেড়ে নেওয়া মৌলিক অধিকার কীভাবে ফিরিয়ে দেবে, তার ঘোষণা দেবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে আমীর খসরু বলেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একটা বক্তব্য এসেছে যে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ড়্গেত্রে “ম্যান্ডেলা রুলস” প্রয়োগ করতে হবে। নেলসন ম্যান্ডেলাকে তার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার জন্য যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, আজকে গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়াকেও “ম্যান্ডেলা রুলসের” মাধ্যমে চিকিৎসার কথা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটাও বলা হয়েছে যে, খালেদা জিয়ার ন্যায়বিচার হবে কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সন্দিহান। একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এরকম বক্তব্য আসায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থান, গণতান্ত্রিক অবস্থান, মানবাধিকারের অবস্থান, আইনের শাসন ভীষণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সতর্ক করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পাকিস্তানের এজেন্ট কি না, পাকিস্তানপ্রেমী কি না, আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয় কি না, আপনার বাবার (শেখ মুজিব) ব্যাপারে আপনার যে প্রশ্ন ষড়যন্ত্রকারীরা সেই একই ঘটনা ঘটায় কি না– এসব ব্যাপারে আপনি সতর্ক থাকুন।’
যুবদলের সাবেক এ সভাপতি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, “পাকিস্তানের করা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।” আর একই দিন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “পাকিরা যেখানে থাকবে সেখানে ষড়যন্ত্র করবে।” তাহলে তো পাকিস্তানের বড় এজেন্ট মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী।’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আলাল বলেন, ‘সাত-আট বছর আগে থেকে আমি বলেছি, আপনার পাশে ইনু, মেনন, এইচ টি ইমাম, মতিয়া চৌধুরীরা আছেন। এরা কখন কী করে বসবেন আপনি টেরও পাবেন না। সেই অবস্থা দাঁড়িয়েছে কি না তা মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীকে দিয়ে আবার নতুন করে দেখেন। কারণ তিনি মোস্ট সিনিয়র ক্যাবিনেট মেম্বার।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, “আমরা কোনো রাজাকারের তালিকা দিইনি। আমরা দিয়েছি ’৭২ থেকে ৭৪ পর্যন্ত দালাল আইনে যাদের নামে মামলা হয়েছে সেই তালিকা।” এটা হলে তো আরও বড় ভয়ংকর অপরাধ।’
সংগঠনের উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিলকিস ইসলাম, ফরিদউদ্দিন, ইসমাইল হোসেন খোকন, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, আ স ম মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
