গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে মঙ্গলবার সকালে ফাতেমা বেগম (৩২) নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের দুই শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ বছর আগে বাহাদুরপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম তারা মণ্ডলের ছেলে আশরাফুল মণ্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী দরবস্ত ইউনিয়নের আখিরাফতেপুর গ্রামের রহিম উদ্দিনের মেয়ে ফাতেমা বেগমের। আশরাফুল মণ্ডল ইটভাটা শ্রমিক। তাদের তিন মেয়ে সন্তান রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ঘরের দরজা বন্ধ পেয়ে বাড়ির লোকজন দরজা খুলে ভেতরে ফাতেমা বেগমের লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ সময় ফাতেমা বেগমের শাশুড়ি কাইফা বেগম ও কোহিনুর বেগমকে আটক করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ফাতেমা বেগমের লাশ গাইবান্ধা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এই ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছে।
নিহত ফাতেমা বেগমের বাবা রহিম উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগে আশরাফুল ইসলাম কালো রঙের একটি সোয়েটার কিনে দেন ফাতেমা বেগমকে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মেহেদি হাসান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের বাবা রহিম উদ্দিন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ফাতেমা বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
