নতুন বছরে কেমন হবে ভাঁজফোনের জনপ্রিয়তা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৫:৫৭ পিএম

আগামী বছর জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে ভাঁজফোন। জায়ান্ট টেক কোম্পানিগুলো একে একে ভাঁজফোন বাজারে আনছে। 

বিবিসি জানায়, মটোরোলা ঘোষণা দিয়েছে, নতুন বছরেই বাজারে আসছে তাদের নতুন রেজর সিরিজ।  ভার্টিক্যাল ফোল্ডিং স্ক্রিনসহ এই ফোনটি মটোরোলার ২০০৫ সালের জনপ্রিয় ফোন মটোরেজরের আধুনিক ভার্সন।

প্রায় ১৫০০ ডলার দামের এই ডিভাইসটি ২৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসার কথা ছিল।

দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান লেনোভো জানাচ্ছে, রেজরের জনপ্রিয়তার কারণে রিলিজ ডেট পিছিয়ে দিতে হয়েছে। তারা বলছে, ফোনের চাহিদার পরিমাণ এর জোগানের চেয়ে অনেক বেশি।

যদিও ফোনটি নির্দিষ্ট কোন তারিখ বাজারে আসছে সেটি না জানালেই মটোরোলা জানিয়েছে যে ফোন বাজারে ছাড়তে খুব বেশি দেরি হবে না।

ফোনটির পরীক্ষানাধীন মডেল ব্যবহার করে এর হার্ডওয়্যারে কিছু সমস্যা খুঁজে পান বিবিসির ক্রিস ফক্স। তার মতে, এটি প্রাথমিক ডিভাইস হিসেবে নয় বরং ফ্যাশনেবল পণ্য হিসেবে মানুষ ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করবে।

দাম হিসেবে ১৫০০ ডলার একটু বেশি মনে হলেও ভাঁজফোনগুলোর মধ্যে এর প্রতিদ্বন্দ্বী ফোনগুলোর - স্যামসাং ফোল্ড (১৯৬০ ডলার) ও হুয়াওয়ে মেইট এক্স (২৬০০ ডলার) - চেয়ে এর দাম কমই।

এপ্রিলে স্যামসাংও তাদের ভাঁজফোনের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের তারিখ স্থগিত করে, যখন পরীক্ষামূলক ব্যবহারকারীরা জানায় যে ফোনের স্ক্রিন ভেঙে গেছে।

স্যামসাংয়ে সমস্যা দেখা যাওয়ার পর হুয়াওয়েও জানায় যে তাদের আরও পরীক্ষা করতে হবে এবং তাদের মেইট এক্সের বাজারে ছাড়ার তারিখ পেছায় তারা।

হুয়াওয়ে মেইট এক্স ও স্যামসাং ফোল্ড ঘোষিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুদিন দেরিতে বাজারে ছাড়া হয়। দেরিতে হলেও দু'টি ডিভাইসই শেষ পর্যন্ত বাজারে ছাড়া হয়- ফোল্ড আসে সেপ্টেম্বরে এবং মেইট এক্স নভেম্বরে।

এ বছরের শুরুতে ধারণা করা হয় যে, স্মার্টফোনের বাজারের মন্দার ভাব কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে নতুন এই ভাঁজফোনগুলো।

তবে ভাঁজফোনের প্রথম বাজারে আনার কৃতিত্ব কিন্তু কোনো খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের নয়। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ক্যালিফোর্নিয়ার রয়্যাল করপোরেশন ফ্লেক্সপাই নামের একটি ফোল্ডিং সেট প্রকাশ করে বেইজিংয়ে।

তবে সেটটি সেভাবে বাজারজাত করা হয়নি এবং এর রিভিউও খুব একটা ভালো ছিল না।

২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শাওমির প্রেসিডেন্ট বিন লিনও একটি ভাঁজফোনের পরীক্ষামূলক ভার্সন প্রদর্শন করেন, কিন্তু চীনা প্রতিষ্ঠানটি এখনো ব্যবহারকারীদের জন্য পণ্যটি চূড়ান্ত করতে পারেনি।

আগামী দশকে স্মার্ট ডিভাইসের বাজারে ফোল্ডিং প্রযুক্তি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা পোষণ করেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রযুক্তি বিশ্লেষক বেন উড বলেন, ‘শুধু স্মার্টফোনই নয়, আগামী এক দশকে নিত্য ব্যবহার্য ইলেকট্রনিকস পণ্যেই বিপ্লব ঘটাবে ফোল্ডিং স্ক্রিনের এই প্রযুক্তি। কিছুদিনের মধ্যেই সব ধরনের পণ্যে স্ক্রিন লাগানো দেখতে পাবো।’

আর এ ধরনের পণ্যের বেশি দাম নিয়ে চিন্তিতদের জন্যও রয়েছে সুখবর। কলম্বিয়ার মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবারের ভাইয়ের প্রতিষ্ঠান এসকোবার ইনকর্পোরেটেড ঘোষণা দেয় যে ভাঁজফোন দিয়েই তারা স্মার্টফোনের বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে এবং তাদের প্রথম পণ্যের দাম হবে ৩৪৯ ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত