ক্যানসার হাসপাতালের আইসিইউর অবহেলা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৩ এএম

জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিআরএইচ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) উচ্চমাত্রার কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও তা ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সদ্য অবসরে (এলপিআর) যাওয়া এই হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ হোসেনের অবসরকালীন সুবিধা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেয়। আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, রাজধানীর মহাখালীর ওই হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের এই অব্যবস্থাপনা ও অবহেলা তদন্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। 

গতকাল ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এ ‘আইসিইউ অন সিকবেড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আইসিইউর জন্য প্রায় এক যুগ আগে আটটি আর্টিফিশিয়াল রেসপিরেটরি ভেন্টিলেটর (এআরভি) মেশিন কেনা হয়। কিন্তু প্রতিটি ৭০ লাখ টাকায় কেনা আইসিইউর জন্য অতি প্রয়োজনীয় এই যন্ত্রগুলো এই দীর্ঘ সময়ে একবারের জন্যও ব্যবহার না করে সেগুলো বিভাগেই অযত্নে ফেলে রাখা হয়েছে। এখন হাসপাতালটির আইসিইউতে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের কোনো ব্যবস্থা নেই। অক্সিজেন সরবরাহের জন্য তিন বছর আগে হাসপাতালটিতে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা চালু হলেও ভেন্টিলেটরগুলো স্থাপন করা হয়নি। এছাড়া ভেন্টিলেটরগুলোর মাদারবোর্ড চুরি হয়ে যাওয়ায় যন্ত্রগুলো এখন অকেজো। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক ও এম এমদাদুল হক গতকাল প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এনে এ বিষয়ে নির্দেশনা চান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত কুমার তালুকদার। আদালত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা বিষয়ে প্রশ্ন তুলে উষ্মা প্রকাশ করেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। 

অ্যাডভোকেট এম এমদাদুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই অতি প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ক্যানসার রোগীরা আইসিইউর সেবা বঞ্চিত হয়েছেন। অনেক রোগী পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে মারা গেছেন। কেউ কেউ বিদেশে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিচ্ছেন। এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা। এ নিয়ে আইসিইউ বিভাগের দায়িত্বরতরা পরিচালককে অবহিত করলেও তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রুল জারির পাশাপাশি এই রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সদ্য অবসরে যাওয়া পরিচালকের অবসরকালীন সব সুযোগ-সুবিধা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত