‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাই মামলার তদন্তই শেষ হয়নি

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫১ এএম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’ ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্র্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের মাত্র আট মিনিটের মধ্যে প্যারা কমান্ডো অভিযানে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হয়েছিল বিমানটি। ওই অভিযানে নিহত হন বিমান ছিনতাই চেষ্টাকারী যুবক পলাশ আহমেদ। মামলা হয় পরের দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি। গত বছরজুড়ে ব্যাপক আলোচিত ছিল এই ঘটনা। তবে এখনো তদন্ত শেষ না হওয়া নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলছেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। মামলার তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে আরও মাস দুয়েক লাগতে পারে।   

সেদিন যা ঘটেছিল : গত বছর ২৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খী’ ১৪২ যাত্রী ও ৫ ক্রু নিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল। ঢাকা ছাড়ার ১৫ মিনিট পর বিমানটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় ওই বিমানে যাত্রীবেশে থাকা পলাশ আহমেদ নামের এক অস্ত্রধারী যুবক। এ অবস্থায় পাইলট বিকেল ৫টা ৪১ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করায় বিমানটি। সঙ্গে সঙ্গে বিমান ঘিরে ফেলে আগে থেকে প্রস্তুত থাকা সেনাবাহিনী, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর জরুরি গেট খুলে দিয়ে নামিয়ে আনা হয় যাত্রীদের। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় কাটে প্রায় দুই ঘণ্টা। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো দলের মাত্র ৮ মিনিটের অভিযানে নিহত হন ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ। সেই সঙ্গে মুক্ত হয় বিমানটি।

মামলা ও তদন্ত : গত বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানায় ছিনতাই চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০১২-এর ৬ ধারা এবং বিমান নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ দমন আইন ১৯৯৭-এর ১১(২) ও ১৩(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত বেসরকারি বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া।

তদন্তের শুরুতেই বিমানটি ছিনতাই চেষ্টার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। জব্দ করা হয় নিহত পলাশের কাছে থাকা পিস্তলটি। পরবর্তী সময়ে ফরেনসিক পরীক্ষায় এটি খেলনা পিস্তল বলেই জানায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, প্যারা কমান্ডোর অভিযানে নিহত পলাশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁয়ের দুধঘাটা এলাকার পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে। এছাড়া চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার শিমলার প্রাক্তন স্বামী ছিলেন তিনি। বিমান ছিনতাইয়ের সময় নিজেকে শিমলার স্বামী বলেও পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। যে কারণে মামলার তদন্তের স্বার্থে শিমলাকেও এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার নোটিস পেয়ে চট্টগ্রাম কাউন্টার টেররিজম ইউনিট কার্যালয়ে এসে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দেন তিনি। এছাড়া বিমানযাত্রী, পাইলট, ক্রু-সহ ৪৫ জনের জবানবন্দি নিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু পলাশের বিমান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়নি। তবে নায়িকা শিমলার সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে মানসিক বিপর্যয় থেকেই পলাশ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেÑ এমনটিই ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য : আলোচিত এ মামলার তদন্ত কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়–য়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর। ইতিমধ্যে ওই বিমানের যাত্রীসহ অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যেহেতু ছিনতাই চেষ্টাকারী নিহত পলাশের সঙ্গে তার প্রাক্তন স্ত্রী চিত্রনায়িকা শিমলার কথাটি বারবার আসছিল, তাই তাকেও আমরা জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু তার জবানবন্দি পেতে বেশ সময় লাগে। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি এসে জবানবন্দি দিয়ে গেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়ত আরও মাস দুয়েক সময় লাগতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত