নাটোরে নিখোঁজের একদিন পর মো. কামরুল ইসলাম জাহিদ (২০) নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া এক তরুণের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে সদর উপজেলার হালসা ইউনিয়নের নবীনকৃষ্ণপুর গ্রামের একটি পুকুরপাড়ের বাঁশঝাড় থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরদেহের এক চোখ উপড়ানো ও কান কাটা অবস্থায় ছিল। জাহিদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নাটোর শহরের চকরামপুরের ‘রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়’ (আরএসটিইউ) এর শেষ বর্ষের ছাত্র নিহত জাহিদ হালসা ইউনিয়নের নবীনকৃষ্ণপুর গ্রামের মো. আফাজ উদ্দিনের সন্তান।
নিহত জাহিদের মা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে তার ছেলেকে
মোবাইল ফোনে কল করে কে বা কারা ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রাতে সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। পরে স্থানীয় এক কিশোরের দেওয়া তথ্যে জাহিদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জাহিদের স্বজনরা জানান, ওই কিশোর প্রথমে রবিবার সকালে পুকুরপাড়ের বাঁশঝাড়ে আগাছা দিয়ে ঢাকা একটি লাশ দেখতে পায়, তবে ভয়ে সারা দিন কাউকে সে ঘটনাটি জানায়নি। বিকেলে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সে আবার বাঁশঝাড়ে লাশটি দেখতে যায়। পরে তারা জাহিদের নিখোঁজ থাকার কথা জানতে পেরে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে জাহিদের ভগ্নিপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বিষয়টি থানায় জানালে রাত ১০টার দিকে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি জাহিদের বলে শনাক্ত করে। মরদেহের বাম চোখ উপড়ানোসহ মাথায় ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশ জাহিদকে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রতিবেশী সোনিয়া খাতুন, আলী হোসেন, ফাতেমা, রানা, হৃদয় এবং আমিরসহ ছয়জনকে আটক করেছে।
নাটোর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্ট চেক করা হচ্ছে। কারা কী কারণে জাহিদকে হত্যা করেছে পুলিশ তার তদন্ত শুরু করেছে।’
এদিকে গতকাল সোমবার সকালে নিহত জাহিদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পরিবারের সদস্যদের মাতম চলছে। আহাজারি করতে করতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তার মা ও বোন। অন্যদিকে অসুস্থ বাবা একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন। জাহিদের ছোট বোন মেরিনা খাতুন জানান, তারা চার বোন ও এক ভাই।
