কিংসের লক্ষ্য এএফসি কাপের জোনাল শিরোপা

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৩৮ এএম

দেশের ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সফল দল বসুন্ধরা কিংস। একদিন আগেই তারা জিতেছে ফেডারেশন কাপ। আর এর মধ্য দিয়ে শীর্ষ পর্যায়ে সবক’টি শিরোপার স্বাদ পেল ক্লাবটি। একটি পেশাদারি ক্লাব হিসেবে কিংসকে গড়ে তুলতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এর সভাপতি ইমরুল হাসান। দেশের স্বনামধন্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন এই ক্লাবটি নিয়ে অনেক স্বপ্নের কথা দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দ’র কাছে প্রকাশ করেছেন এই ফুটবলপাগল মানুষটি-

অভিষেক মৌসুমে ফেডারেশন কাপ জিততে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু এরপর থেকে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে ক্লাব। বিপিএল, স্বাধীনতা কাপের পর এবার মৌসুম শুরু করেছেন ফেডারেশন কাপ দিয়ে। সাফল্যের এমন ধারাবাহিকতায় কতটা তৃপ্ত?

ইমরুল হাসান : স্বভাবতই আমরা আনন্দিত। বিশেষ করে ফেডারেশন কাপ পাওয়াতে। কারণ গত বছর ফাইনালে উঠেও জিততে না পারার একটা আক্ষেপ কাজ করছিল। সেটা পেলে আমরা হয়তো গত এএফসি কাপ খেলতে পারতাম। এক বছর পিছিয়ে যেতে হয়েছে। যদিও লিগ শিরোপা জয় বড় অর্জন। তারপরও গতবার ফেডারেশন কাপ না জেতার আক্ষেপ এবার ঘোচাতে পেরে বাড়তি আনন্দ লাগছে। গত মৌসুমের ফাইনালটা বিভিন্ন কারণেই ঘটনাবহুল ছিল। কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছিল। সবকিছু ছাপিয়ে শিরোপা জেতাকে আমি বলব চ্যাম্পিয়নের চেয়েও বড় কিছু।

ফাইনালের প্রতিপক্ষ ছিল রহমতগঞ্জ। দলটি বড় প্রতিপক্ষ নয়। তবে তারা নিজেদের প্রমাণ করে, বড় বড় দলগুলোকে পেছনে ফেলে ফাইনালে উঠে এসেছিল। আর আপনারা চাইছিলেন যে করেই হোক শিরোপাটা জিততে। তো ম্যাচের আগে দলের ভেতরের পরিস্থিতিটা কেমন ছিল?

ইমরুল : ফাইনালের আগের দিন খেলোয়াড় এবং কোচদের সঙ্গে কথা বলেছি। সবাইকে খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল। আমরা তাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলতে বলেছিলাম। তবে রহমতগঞ্জের পারফরম্যান্সটা ছিল নজরকাড়া। মাঝারি শক্তির দল হলেও তাদের কোচ জিলানী (সৈয়দ গোলাম) শক্তিশালী একটি দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল। ওরা কিন্তু এবার সবগুলো বড় দলের সঙ্গে খেলেছে। গ্রুপপর্বে সাইফ, শেখ জামাল, নকআউটপর্বে তারা খেলেছে আবাহনী, মোহামেডানের মতো দলের বিপক্ষে। কাজেই ওদের এটাকে ফ্লুক বলা যাবে না। চাইব রহমতগঞ্জ তাদের এই সাফল্য লিগে বজায় রাখুক। কারণ লিগে যত বেশি দল চ্যাম্পিয়শিপ লড়াইয়ে থাকবে, ততই লিগটা জমবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

সবমিলিয়ে কিংসের পারফরম্যান্স কেমন লেগেছে আপনার কাছে?

ইমরুল : প্রতি গ্রুপে দল ছিল তিনটি। তাই প্রথম ম্যাচ জয়ের পর আসলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে পরের ম্যাচটায় হয়তো একটু আয়েশি ভাব চলে এসেছিল। পাশাপাশি কোচও খানিকটা পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেছে। চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচের ফলটা মুখ্য ছিল না, মুখ্য ছিল টিম কম্বিনেশন ঠিক করা। মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে দুর্ভাগ্যজনকভাবে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে যাওয়ায় ম্যাচটা টাইব্রেকারে জিততে হয়েছে। তবে সেমিফাইনালে আর ফাইনালে কিন্তু ভালো রূপেই দেখা গেছে দলকে। সেরা একাদশ খেলিয়ে সাফল্য এসেছে।

দলের প্লে-মেকার দানিয়েল কলিনদ্রেসের পারফরম্যান্স নিয়ে কী বলবেন?

ইমরুল : গত বছর তার পারফরম্যান্সে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম বলেই চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই তা নবায়ন করে ফেলি। এ বছর শুরুতে অনুশীলনের ঘাটতি এবং টিম কম্বিনেশনের জন্য হয়তো শুরুর দিকে তার কাছ থেকে পুরোটা পাইনি। কিন্তু ধীরে ধীরে ঠিকই গুছিয়ে নিচ্ছে। আমি মনে করি সামনে ও আরও ক্ষুরধার হবে।

সামনে এএফসি কাপ, লিগ, স্বাধীনতা কাপ আছে। ফেডারেশন কাপ জয়ের ফলে ২০২১ এএফসি কাপের প্লে-অফে খেলা নিশ্চিত হয়েছে। সামনের পথচলা নিয়ে আপনার ভাবনাটা জানতে চাই।

ইমরুল : গত বছর লিগ শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এএফসি কাপকে সামনে রেখে দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিই। দেশি-বিদেশি যারা গত মৌসুমে ভালো করেছে, তাদের সবাইকে ধরে রেখেছি। আরও কিছু স্থানীয় ও বিদেশি খেলোয়াড় এনেছি। একাদশ এবং বেঞ্চে যারা আছেন, তারা সবাই সমমানের। এবার রিজার্ভ বেঞ্চটাও অনেক শক্তিশালী। সবাইকে নিয়ে এএফসি কাপে একটা ভালো ফল আনা সম্ভব।

এএফসি কাপে লক্ষ্য কী থাকবে?

ইমরুল : গত এএফসি কাপে আবাহনী জোনাল সেমিফাইনালে খেলেছে। আমাদের লক্ষ্য জোনাল চ্যাম্পিয়ন হওয়া। বিদেশি খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে যে মানের খেলোয়াড় টার্গেট করেছিলাম, ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সে মানের খেলোয়াড় আনতে পারিনি। তবে এএফসি কাপকে সামনে রেখে দু’একজন ভালো বিদেশি আনতে চাই। বিশেষ করে লেবানিজ জালাল কদৌর কাছ থেকে প্রত্যাশিত নৈপুণ্য এখনো আমরা পাইনি। আশা করছি ও সামনের দিনগুলোতে ভালো করবে।

শিরোপা জয়ের পর ফুটবলারদের জন্য বাড়তি কোনো পুরস্কার কী থাকছে?

ইমরুল : ঘোষণা আগে থেকেই ছিল- চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ১৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া গোলদাতা এবং গোলের জোগানদাতাদের জন্য ১ লাখ টাকা করে পুরস্কারের ঘোষণা ছিল। সেগুলো তারা পাবে। তবে আরেকটা ঘোষণা ছিল, সেটা তারা নিতে পারেনি। ৩  গোলের ব্যবধানে ফাইনাল জিতলে সব বোনাস দ্বিগুণ হয়ে যেত। এই শিরোপা উদযাপনেরও একটা পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আমাদের দলের বেশিরভাগই জাতীয় দলের। সামনে যেহেতু জাতীয় দলের ব্যস্ততা আছে। তাই তাদের সবাইকে এক সপ্তাহের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটি এবং জাতীয় দলের ব্যস্ততা শেষে ফিরলে উদযাপন হবে।

মেয়েদের লিগ আসন্ন। সেখানেও শোনা যাচ্ছে মেয়েদেরও সেরা দল করবে বসুন্ধরা...

ইমরুল : বাফুফের লিগ আয়োজনের ঘোষণা জেনেই আমরা জাতীয় দলের বেশ ক’জন মেয়ের সঙ্গে কথা বলে রেখেছি। এছাড়া ট্রায়ালের মাধ্যমেও কিছু মেয়েকে বাছাই করে রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে দলটা ভালোই হবে। কোচ মাহমুদা অদিতির অধীনে দল প্রস্তুত করব। এছাড়া পুরো অস্কার ব্রুজনসহ কোচিং স্টাফও দলটিকে দেখভাল করবে। আশা করব বাফুফে এই লিগ নিয়মিত আয়োজন করবে। সেটা করলেই হয়তো দীর্ঘমেয়াদি দল লালন-পালন করব। তবে ৫-৬টি দল নিয়ে লিগ জমজমাট হবে না। আমি আশা করব সামনে দল বাড়বে। অন্তত প্রিমিয়ার লিগের সবক’টি দল মেয়েদের দল গড়বে।

আপনাদের অনূর্ধ্ব-১৮ একটি দল আছে। এছাড়া ‘বি’ দল গড়ার কথাও শোনা যায়...

ইমরুল : হ্যাঁ একটা অনূর্ধ্ব-১৮ দল আছে আমাদের। ইচ্ছে আছে অতি শিগগিরই তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটা চুক্তি করতে। যাতে তারা ভবিষ্যতে কিংসের পাইপলাইন হিসেবে কাজ করতে পারে। তাছাড়া যাদের ১৮’র বেশি বয়স হয়ে গেছে, পরিকল্পনা আছে তাদের নিয়ে সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লিগে একটি দল করার। তাছাড়া আরেকটি অনূর্ধ্ব-১৪ দল গড়ারও ইচ্ছে আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত