শিশু ধর্ষণকারীদের মৃত্যুদণ্ড কেন নয় : হাইকোর্ট

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৫৭ এএম

শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের মাধ্যমে কেন সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ধর্ষণের কারণ চিহ্নিত করে এর প্রতিরোধে একটি কমিশন গঠন করার নির্দেশও দিয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণের মতো অপরাধীদের বিচারের জন্য পৃথক আদালত গঠনের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী রাবেয়া ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাশার জানান, ১৬ বছরের নিচে শিশুকন্যাদের ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডকরণে রুল দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে শুধু ধর্ষণের বিচারের জন্য পৃথক আদালতের মাধ্যমে বিচার করার প্রশ্নেও রুল দিয়েছে হাইকোর্ট।

তিনি জানান, রুলের পাশাপাশি বিচারক, আইনজীবী, চিকিৎসক, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিশন গঠনেরও সুপারিশ করে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে এই কমিশন গঠনের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে কমিশন ছয় মাসের মধ্যে ধর্ষণের মূল কারণ চিহ্নিত করে এ ধরনের ঘটনা কীভাবে রোধ করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করার কথা বলেছে। 

আইনজীবীরা জানান, শিশু ধর্ষণকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রণয়ন করতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না এবং ধর্ষণের ফলে কারও মৃত্যু হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন সাজার যে বিধান, সেখানে যাবজ্জীবন সাজা উঠিয়ে দিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীদের প্রতিকার পেতে সাক্ষী সুরক্ষা আইন কেন প্রণয়ন করা হবে না, ধর্ষকদের ডিএনএ সংরক্ষণের জন্য কেন ডিএনএ ডাটাবেজ করা হবে না, প্রতিটি জেলায় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) মাধ্যমে ভিকটিমদের সুরক্ষায় কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত