সিপিবি প্রার্থীর ইশতেহার জনগণের সেবায় ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে করপোরেশন

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২৭ এএম

জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে করপোরেশন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে মেয়র পদে সিপিবি প্রার্থী ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল।

সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঢাকাকে তথাকথিত তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করার নামে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে নদী-খাল-জলাশয় ভরাট করে দখল করা হয়েছে। ঢাকাকে পরিণত করা হয়েছে নরক নগরীতে। এই নগরীকে বাঁচিয়ে রাখতে সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।

ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী রুবেল তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত ও জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে নগর প্রশাসন পরিচালনাই হবে আমাদের মূল নীতি। সিটি করপোরেশনের কোনো দরজায় পর্দা থাকবে না। সব দরজার পর্দা প্রথা খুলে ফেলা হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, গৃহস্থালি, হাসপাতাল, কলকারখানার বর্জ্য রিসাইকেলের মাধ্যমে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের মতো সম্পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ই-বর্জ্যরে অপসারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হবে। গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান, মশা নিধন, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে নদী ও খালগুলো দখলমুক্ত করে পানিপ্রবাহ ঠিক রাখার পরিকল্পনা তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত, বাড়িভাড়ার সঠিক ব্যবস্থাপনা, নারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, হকার ও রিকশার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার জন্য মানসম্মত প্রতিষ্ঠান গড়া ও প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধা দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অসাম্প্রদায়িক ঢাকা গড়ার বিষয়ে জোর দেন তিনি।

সিপিবির এই মেয়র প্রার্থী বলেন, পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করা, বাড়িভাড়া আইন-১৯৯৫ বাস্তবায়ন, বস্তি উচ্ছেদ বন্ধ করা, ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়ন্ত্রণ করা, সিটি করপোরেশনের নিজস্ব গণপরিবহন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ইভিএমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট নিয়ে সারা বিশ্বে বিতর্ক রয়েছে। আমরা চাই ব্যালটের মাধ্যমে ভোট হোক। যদিও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভরে রাখা হয়েছিল। এবার ইভিএমে কী ধরনের কারচুপি করা হবে তা আমরা এখনো জানি না। কিন্তু তারা নতুন পন্থা খুঁজছে। তবে এবার কোনো অনিয়ম হলে ভোটের দিনই সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত