অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ উপলক্ষে প্রকাশ হয়েছে আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর অনুবাদে ‘খুশবন্তনামা: জীবন থেকে যা শিখেছি’।
ভারতের বিখ্যাত সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী খুশবন্ত সিংয়ের আত্মজীবনীমূলক বই ‘খুশবন্তনামা: দ্য লেসনস অব মাই লাইফ’-এর অনুবাদ এটি।
বইটি বের করেছে অগ্রদূত এন্ড কোম্পানি। গায়ের দাম রাখা হয়েছে ২০০ টাকা। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে অগ্রদূতের স্টল নং ৬২৮-৬২৯ এ।
অনুবাদক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু বইটি প্রসঙ্গে বলেন, ‘খুশবন্ত সিং এমন একজন লেখক ছিলেন, তার লেখা কেউ একবার পাঠ করার পর পাঠক উদ্গ্রীব থাকেন, এরপর কী আসছে! পাঠকদের তিনি বঞ্চিত করেননি। ৯৮ বছর বয়সেও তিনি লিখেছেন এবং তার সর্বশেষ প্রকাশিত বই ছিল-খুশবন্তনামা। বরাবরের মতোই তিনি অকপট। রাখঢাক করতেন না কোনোকিছুতেই। নিজের সম্পর্কে বলতেও তিনি ছিলেন দ্বিধাহীন। খুশবন্তনামায়’ও পাঠক তার প্রমাণ পাবেন। বইটির বাংলা অনুবাদ খুশবন্ত সিংয়ের লেখার ভক্তদের সমৃদ্ধ করবে বলে আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৃত্যুর দুই-এক বছর আগে ৯৮ বছর বয়সে ‘খুশবন্তনামা: দ্য লেসনস অব মাই লাইফ’ লিখেছেন খুশবন্ত সিং। ওই বয়সেও তিনি খেই হারিয়ে ফেলেননি। বর্ণনার পাশাপাশি সরস যৌন বক্তব্য, কৌতুক ও পরিহাস সবই আছে খুশবন্তনামা’য়। তার লেখার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি যেভাবে কথা বলতে অভ্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেভাবে লিখতে পারঙ্গম ছিলেন। পাঠককে তিনি বিনোদন দিতেন এবং খেপিয়েও তুলতেন। বইটা অনেকটা আত্মজীবনীমূলক এবং এতে রয়েছে আংশিক মন্তব্য, রাজনীতি, দেশবিভাগের বেদনা, যৌনকর্মের সুখ, কবিতা পাঠের আনন্দ এবং মানুষের জীবনে হাস্যরসের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য।’
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জুর জন্ম ১৯৫৪ সালে শেরপুর জেলায়। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার ওপর ডিগ্রি নেন। চার দশকের বেশি সময় জুড়ে বাসসসহ বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকার বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দেশের অনুবাদ সাহিত্যে তিনি অগ্রগণ্য। এখন পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পাঠকপ্রিয় অনুবাদগ্রন্থ আছে তার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- খুশবন্ত সিংয়ের দিল্লি, ট্রেন টু পাকিস্তান, দ্য কোম্পানি অব ইউমেন, ব্যারিয়াল এট সি, দ্য সানসেট ক্লাব, মির্জা হাদি রুসওয়ার ওমরাও জান, গুলজারের মির্জা গালিব, উইলিয়াম ড্যালরিম্পেলের দ্য লাস্ট মোগল, হোয়াইট মোগলস, সিটি অব জ্বিনস, আমিন মালোফের সমরখন্দ, নাগিব মাহফুজের কায়রো ট্রিলজি, ওরহান পামুকের ইস্তাম্বুল দ্য মেমোরিজ অ্যান্ড দ্য সিটি।
