সোমবারের মধ্যে গ্রামীণফোনকে দিতে হবে হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:০৩ এএম

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (বিটিআরসি) নিরীক্ষা দাবির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা আগামী সোমবারের (২৪ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে গ্রামীণফোনকে দিতে নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে গ্রামীণফোনের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ। আদালতে বিটিআরসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। গ্রামীণফোনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএম আমিনউদ্দিন ও মেহেদী হাসান চৌধুরী।

গত বছর ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ এক আদেশে গ্রামীণফোনকে তিন মাসের মধ্যে আপাতত ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সর্বোচ্চ আদালতের এ আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন। ওই অর্থ পরিশোধে আদালতের নির্ধারিত সময় শেষ হচ্ছে আগামী সোমবার। গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসিকে ১০০ কোটি টাকা দিয়ে পাওনার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল গ্রামীণফোন। তবে বিটিআরসি এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। গতকাল শুনানিতে গ্রামীণফোন ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধে সময় চায় এবং ছয় মাসের কিস্তিতে পরিশোধের আর্জি জানায়। আদালত তাতে সায় না দিয়ে সোমবারের মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা দিতে বলে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য ওইদিন ধার্য রাখে আপিল বিভাগ।

বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই-রাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পরও ২ হাজার কোটি টাকা না দেওয়ায় আদালত উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তারা (গ্রামীণফোন) ছয় মাসের কিস্তিতে ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু আদালত সেটি নাকচ করেছেন। আদালতের মনোভাব হলো ২ হাজার কোটি টাকা গ্রামীণফোনকে দিতেই হবে। এর মধ্যে এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের মধ্যে গ্রামীণফোনকে ১ হাজার কোটি টাকা দিতে হবে। যদি না দেয় তাহলে বিটিআরসি আইন অনুযায়ী গ্রামীণফোনে প্রশাসক নিয়োগসহ যেকোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে। বাকি ১ হাজার টাকা কবে কীভাবে দেবে সে বিষয়ে সোমবার আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।’ গ্রামীণফোনের আইনজীবী মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত আদেশ দিয়েছেন। এখন ক্লায়েন্টের (গ্রামীণফোন) সঙ্গে আলোচনা করব। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করে সোমবার আদালতকে অবহিত করব।’

বিটিআরসির পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে গ্রামীণফোন কত দিতে পারবে তা জানাতে কয়েক দফা সময় নেওয়ার পর গত বছর ১৪ নভেম্বর আদালতে শর্তসাপেক্ষে বিটিআরসিকে আপাতত ২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয় দেশের শীর্ষ এ মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরটি। আর সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওনার অন্তত ৫০ ভাগ পরিশোধ করে পরবর্তী সময়ে আলোচনার মাধ্যমে বাকি টাকার বিষয়ে সিদ্ধান্তের প্রস্তাব করে বিটিআরসি। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ নভেম্বর ২ হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ আসে। এরপর গত ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগের এ আদেশ রিভিউ চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন।

বিটিআরসির দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বিটিআরসির। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে গত বছর ২ এপ্রিল নোটিস দেয় বিটিআরসি। দুই টেলিকম প্রতিষ্ঠান সালিশি নিষ্পত্তির প্রস্তাব করলে সেটি নাকচ করে বিটিআরসি। বিটিআরসি পাওনার বিষয়ে গত বছর আগস্টের শেষ সপ্তাহে ঢাকার সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতে স্বত্বের মামলার (টাইটেল স্যুট) আবেদন করে গ্রামীণফোন। সেই আবেদনটি গৃহীত হয়ে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ওই আবেদনের অধীনে বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হলে গত ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালতে সেটি খারিজ হয়ে যায়। এরপর সেটি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ওই খারিজাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন। এরই মধ্যে অর্থমন্ত্রীর উদ্যোগে গ্রামীণফোন ও বিটিআরসির কর্মকর্তাদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক হলেও তাতে সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। গত বছর ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এক আদেশে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির ওই পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে বিটিআরসি গত ২০ অক্টোবর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত