পদ্মা সেতুসহ দেশের বিভিন্ন চীনা প্রকল্প ‘ঠিক সময়ে’ শেষ হবে বলে দেশটির সরকার বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৮ম জাতীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) পণ্যমেলায় আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সঙ্গে তাদের (চীনের) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কাউন্সিলর উয়াংয়ের টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। উনি বলেছেন, টেম্পোরারি অনেকে (প্রকল্পসংশ্লিষ্ট চীনা কর্মী) আসতে পারতেছে না। বলেছেন যে, এটাতে কোনো অসুবিধা নেই। যখন অবস্থা ইমপ্রুভ করবে, তখন আমরা ডাবল এফোর্ট দিয়েৃ অল প্রজেক্টস অন টাইম শেষ হবে।’
সেমিনারে ড. মোমেন বলেন, ‘এসএমই খাতে ঋণখেলাপি মাত্র ১ শতাংশ। এজন্য এসএমই খাতে ঋণ সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন।’ বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে দেশের এসএমই খাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
প্রকল্পের কাজে গতি আনতে চীনের নাগরিকদের অন-অ্যারাইভাল ভিসা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত দাবি করেছেন, চীন থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘তথ্যটা আমার কাছে বেখাপ্পা লাগছে। কারণ আমরা দেখেছি অধিকাংশ লোক (আক্রান্ত ও মৃত) উহান এবং হুবেই প্রদেশের। অন্যান্য দেশে একটা-দুইটা করে হচ্ছে। অন্য দেশের মধ্যে সাউথ কোরিয়া, ইতালি আর ইরানের খবর আপনাদের মাধ্যমে শুনেছি। সুতরাং উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন, আমি ঠিক জানি না, উনি কোন প্রেক্ষিতে বললেন। আমরা তো দেখি, হাজার হাজার লোক উহান থেকেই আক্রান্ত হয়েছে। ওটাকে আমরা বলি, এপিসেন্টার অব করোনাভাইরাস।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নিরুৎসাহিত করতেছি সবাইকে, এ অবস্থায় যাতে আমাদের দেশে না আসে। আর কারও যদি নেহাত আসতে হয়, প্রথমে টেস্ট করে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে দেখাবে যে, তার করোনাভাইরাস নেগেটিভ। বাংলাদেশে আসার জন্য টিকিটকাটা যাত্রীদের ফ্লাইটে ওঠার আগেই পরীক্ষা করে দেখতে এয়ারলাইন্সগুলোকে অনুরোধ রইল। আমাদের দেশের লোকদের রক্ষা করার জন্য...কারণ আমার দেশের লোকতো অনেক। যদিও আমরা প্রস্তুত, তবুও অনেক সংখ্যক হলেতো মুশকিল।’
এসএমই খাতে খেলাপি ঋণ ১ শতাংশ : সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের এসএমই খাতে খেলাপি ঋণ মাত্র ১ শতাংশ। উন্নত দেশে ক্ষুদ্র শিল্পে সহজ কিস্তিতে ঋণ দেওয়া হয়। এ খাতকে সহযোগিতা করলে দেশে দরিদ্র থাকবে না। শিল্পসমৃদ্ধ দেশের ৯০ শতাংশই এসএমই দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মাত্র ২৫ শতাংশ আসে এসএমই খাত থেকে। এ খাতে আরও উন্নতির বিশেষ প্রয়োজন আছে।
৭৮ লাখ উদ্যোক্তার সাড়ে ৫ লাখ নারী : এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে আরেকটি সেমিনারে জানানো হয়, দেশে মোট ৭৮ লাখ উদ্যোক্তা রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫ লাখ ৬০ হাজার নারী, যা শতকরা হিসাবে ৭ দশমিক ২১ শতাংশ। দেশের নারী উদ্যোক্তারা বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করলেও বিভিন্ন বাধার কারণে এগোতে পারছে না।
সেমিনারে নারী উদ্যোক্তারা জানান, ব্যবসা করে এগিয়ে যেতে যথেষ্ট পরিমাণে যোগ্যতা থাকার পরও যথাযথ সহায়তার অভাবে তারা এগোতে পারছে না। দেশে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণে মেলা না হওয়ায় ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নারীরা নিজেদের উদ্ভাবিত পণ্য বিশ্ববাজারে তুলে ধরতে পারছে না। নানা আইনি জটিলতার কারণে সরকার ঘোষিত রপ্তানি প্রণোদনার টাকাও বেশিরভাগ উদ্যোক্তাই তুলতে পারে না। আবার প্রণোদনা থাকায় ক্রেতারা পণ্যের দাম কম দিচ্ছে। অনেক ব্যাংক ছোট উদ্যোক্তাকে ঋণই দিচ্ছে না। কমপ্লায়েন্স ইস্যুরের কারণে অনেক উদ্যোক্তা অর্ডার পায় না।
