বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার দিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিশ বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। তিনি ঢাকা সফর করবেন। আগামী ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মোদির বাংলাদেশ সফরের কথা ঘোষিত হলেও করোনাভাইরাসের কারণে ব্রাসেলসে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। ওই সম্মেলনে মোদির যোগ দেওয়ার কথা ছিল। রবিশ জানান, ওই শীর্ষ সম্মেলনের পরবর্তী দিন উপযুক্ত সময়ে স্থির করা হবে। বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সফরে দ্বিপক্ষীয়
বিষয়ও আলোচিত হবে। তা পরে ঠিক করা হবে। মোদি কবে ঢাকা যাবেন ও কবে ফিরবেন, তা অবশ্য জানানো হয়নি। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
দিল্লির সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে মুজিববর্ষে মোদির সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর ঘিরে সে দেশে কিছু বিতর্ক দেখা দেয়। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের প্ররোচনায় এই সহিংসতা এমন অভিযোগে বাংলাদেশে কেউ কেউ মোদির সফরের বিরোধিতা শুরু করেন। বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপও সৃষ্টির চেষ্টা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতারা সেই সমালোচনা ও দাবিতে কর্ণপাত করেননি। সমালোচনার মুখে তারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অসীম। মুজিববর্ষ উদযাপনে ভারতের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো বাংলাদেশের কর্তব্য।
