করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হলে অবশ্যই সেটা করা হবে। গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণের কার্র্যক্রম শুরু করার আগে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্বব্যাপী যেভাবে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে, এটা এখন কোনো দেশের বিষয় নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা এক দিকে মুজিববর্ষের কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং এরই মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাসে দেশবাসীর করণীয় সম্পর্কে সতর্ক করার বিষয়টি দেখছি। আমাদের এখানে করোনার বিষয়টি সংক্রমিত আকারে হয়নি। এটা ইতালি থেকে দুজনের আগমনে তাদের ভেতরে খোঁজে পাওয়া যায়, তাদের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে দুজন ভালো হয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে সারা দেশে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নজরদারি চলছে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্কুল-কলেজ বন্ধের একটা দাবি এসেছে, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো হচ্ছে না বলে অনেকে বলছে। এখানে সরকার কিন্তু গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে চিন্তাভাবনা নেইÑ এমন কিছু নয়। কারণ এখানে প্যানিক সৃষ্টি করে কোনো লাভ নেই। তিনি বলেন, আমাদের এখানে বিষয়টা সেই পর্যায়ে আসেনি। নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার খবর খুঁজে পাইনি। আমাদের এখানে বিষয়টি যদি খারাপ ভাবে মোড় নেয় বা স্কুল কলেজ বন্ধ করার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা করা হবে। আস্থা রাখুন সরকারে ওপর, আস্থা রাখুন প্রধানমন্ত্রীর ওপর। তিনি যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার সাড়া দিয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রস্তাব এসেছে নরেন্দ মোদির কাছ থেকে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে সাড়া দিয়েছে এ ব্যাপারে। আমাদের এই ব্যাপারে যৌথ উদ্যোগ নিতে কোনো আপত্তি নেই।
করোনাভাইরাস মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রস্তুতিতে সামান্যতম ঘাটতি নেই। এখন বিএনপি অভিযোগ করছে। সব কিছুতেই বিএনপি নন্দঘোষ সরকারকে দেখছে। সবকিছুতেই তারা রাজনৈতিক ইস্যু খোঁজার পাঁয়তারা করছে। এটাই এখন তাদের রাজনীতি। তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে অনুরোধ করব, সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপানোর আগে নিজেরা নিজেদের ঘর সামলান। আপন ঘরেই আপনাদের অসুবিধা, সমস্যা। করোনার মতো ভাইরাস আপনাদের ঘরে রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়েছে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়া চৌধুরী, দীপু মনি, আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, আবদুস সোবহান গোলাপ, বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ। পরে আওয়ামী লীগের নেতারা গুলিস্তান এলাকায় করোনাভাইরাস সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ করেন।
