ভয়াবহ করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামনের সারিতে থাকতে হচ্ছে চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের। ফলে তাদের মধ্যেও সংক্রমিত হচ্ছে ভাইরাসটি।
আলজাজিরা জানায়, ইতালিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে চিকিৎসা সেবায় যুক্তদের সংখ্যাও কম নয়।
এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬২৯ জন চিকিৎসক-নার্স-স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ইতালির স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে জড়িত একটি গোষ্ঠী জানিয়েছে।
‘ন্যাশনাল হেলথ ইনস্টিটিউট থেকে সরবরাহকৃত তথ্য থেকে আমরা এই সংখ্যাটি জেনেছি’, ইতালিয়ান গ্রুপ ফর এভিডেন্স-বেজড মেডিসিন (জিএইএমবিই)-এর ডিরেক্টর নিনো কার্টাবেলোত্তা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য সাধারণ স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা প্রকাশ হওয়া শুরু করেছে ১১ মার্চ থেকে। তখন থেকে দিনে কয়েকশ করে আক্রান্তের খবর আসছে।’
আক্রান্ত কর্মরতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে তিনি জানান। কারণ সবসময় তাদের পরীক্ষা করা হয় না এবং হাসপাতালে সুরক্ষা ব্যবস্থাপনা অপর্যাপ্ত। অনেককে শুধু মুখে মাস্ক পরেও রোগীর কাছে যেতে হচ্ছে।
এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা যেহেতু করোনা মোকাবিলায় সামনের সারিতে রয়েছে, প্রথমেই তাদের সুরক্ষিত থাকা উচিত।’
চীনে যে পরিমাণ স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত আক্রান্ত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে, ইতালির এই সংখ্যা তার চেয়েও দ্বিগুণ বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮১০ জনে। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৪ হাজার মানুষ।
আক্রান্তদের ৮০ হাজারই চীনের বাসিন্দা। মৃতদের মধ্যে ৩ হাজার ৩১০ জন হুবেই প্রদেশের।
তবে করোনাভাইরাসের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ইউরোপ। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তিন দেশ মিলে মারা গেছে ৪ হাজারের কাছাকাছি। যার মধ্যে ইতালিতে মৃত প্রায় ৩ হাজার। দেশগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৫০ হাজার।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে কভিড-১৯। যুক্তরাজ্যে ৭১, নেদারল্যান্ডসে ৫৮, সুইজারল্যান্ডে ৩৩, জার্মানিতে ২৮ জন মারা গেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা শতাধিক। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে।
ইরানেও ভয়াবহভাবে আঘাত হেনেছে করোনা। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৩৫ জন। আক্রান্ত ১৭ হাজারের অধিক। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটিতে অন্তত ১০ লাখের মৃত্যু হতে পারে।
