১৩ জেলায় প্রবাসীসহ আরও ১৩৬৭ জনকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার আরও ২০৭৯ জনকে রাখা হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে অনেকেই হোম কোয়ারেন্টাইনের শর্ত না মেনে ঘরের বাইরে যাচ্ছেন, লোকালয়ে চলাফেরা করছেন।
গতকাল মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ভারত থেকে এসে কোয়ারেন্টাইনে না থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ায় এক যুবককে আটক করে উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
সিলেট বিভাগে গতকাল নতুন করে ৩৩২ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে সিলেটে ৬৮২ জন, সুনামগঞ্জে ৯১ জন, মৌলভীবাজারে ৩১৭ জন এবং হবিগঞ্জে ১২৪ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
পাবনায় গতকাল ১৭৭ বিদেশি নাগরিকসহ ৩২৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে পাবনায় মোট ৩৯৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের সবাই ঈশ^রদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
ফেনীতে ৮৩ জন প্রবাসীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এর আগের ৮৭ জনসহ পুরো জেলায় মোট ১৬৪ জন বিদেশফেরত কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় গত ১ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ১০৮ জন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাড়িতে ফিরেছেন। এদের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা মেনে মাত্র ৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বাকিরা করোনাভাইরাস ঝুঁকি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছেন।
ঝিনাইদহে ইতালি, চীন, ভারতফেরত ১১৫ জনসহ পরিবারের ৪২৮ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এর মধ্যে গতকাল বিদেশ থেকে ফিরেছেন ২৬ জন। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়ার পরও তারা তা মানছেন না। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সরোজ কুমার নাথ জানান, যারা এ নির্দেশ পালন করছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গতকাল সুনামগঞ্জে আরও ৪৮ প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ। এ নিয়ে গত ছয় দিনে সুনামগঞ্জে ইতালি, স্পেন, ওমান, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ৯১ প্রবাসীকে এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সুনামগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ।
পিরোজপুরে জেলা হাসপাতালের করোনাভাইরাস আইসোলেশন ইউনিটে মো. তাহের ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। টাঙ্গাইলে গতকাল ২৬০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সাতক্ষীরায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ১৬৯ জন। শর্ত অমান্য করায় তিন বিদেশ ফেরতকে জরিমানা করা হয়েছে। একজনকে রাখা হয়েছে আইসোলেশনে।
ঢাকার নবাবগঞ্জে বিদেশফেরত ২০৪ জন ও দোহারে ৪৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। মাগুরায় গতকাল দুপুর পর্যন্ত ৫৫ জনসহ মোট ১৩৬ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বিদেশফেরত ১২ জন ও উপজেলার বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
