সুপার কম্পিউটারে করোনা ঠেকানোর রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২০, ১১:১২ পিএম

আইবিএমের তৈরি ‘ব্রেন অব এআই’যুক্ত বিশ্বের দ্রুততম সুপারকম্পিউটার সামিট করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বেশ কিছু রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা একে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের পদক্ষেপ বলছেন। এতে বিজ্ঞানী ও গবেষকরা কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। গবেষকরা বলছেন, কোন যৌগ কার্যকরভাবে ধারক কোষের সংক্রমণ ঠেকাতে পারে, তা নিয়ে হাজার হাজার সিমুলেশন বিশ্লেষণ করেছে সুপার কম্পিউটার। এর মধ্যে ৭৭ ধরনের যৌগ শনাক্ত করা হয়েছে। এতে কার্যকর ভ্যাকসিন তৈরির পথে আরও একধাপ এগোনো যাবে।

২০১৪ সালে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধান করার উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জির ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি (ওআরএনএল) সুপার কম্পিউটারটি তৈরি করে। এটি আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার টাইটানের চেয়েও আট গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। সামিটের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ২০০ পেটাফ্লপস বা প্রতি সেকেন্ডে দুই লাখ ট্রিলিয়ন হিসাব করার ক্ষমতা। কীভাবে বিভিন্ন ওষুধের যৌগগুলো করোনভাইরাসকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেয়, তা বের করার জন্য সামিটের মডেল করা হয়েছিল। 

ওক রিজের গবেষক মিকোলাস স্মিথ বলেন, ধারক কোষকে ভাইরাস মূলত জেনেটিক উপাদানের ‘স্পাইক’ বা কাঁটা দিয়ে সংক্রমিত করে। সামিটের কাজ ছিল এমন ওষুধের যৌগ বের করা, যা সেই স্পাইকে বাঁধতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে বিস্তারটি বন্ধ করতে পারে। গত জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক গবেষণা তথ্য থেকে করোনাভাইরাসের স্পাইকের একটি মডেল তৈরি করা হয়। সামিটের সাহায্যে তিনি ভাইরাল প্রোটিনের অণু ও কণাগুলো কীভাবে বিভিন্ন যৌগে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা বের করেন। এ পরীক্ষার ফলাফলের অর্থ করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক বা ওষুধ বের হয়েছে এমন নয়। বরং করোনাভাইরাসের কার্যকর ওষুধ তৈরির পথে এ ধরনের গবেষণা জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত