খালেদা জিয়ার সুস্থ হতে ‘দীর্ঘ সময়’ লাগবে

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ০১:১৬ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, তার পূর্ণ সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে উদ্বিগ্ন খালেদা জিয়া। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে এ সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। একইদিন তার স্বজনরা  দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকায় ও খাওয়া-দাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার ভাগ্নে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মামুন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।

ডা. জাহিদ বলেন, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর গুলশানের নিজ বাসভবন ফিরোজায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন খালেদা জিয়া। লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এখন তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। তার পূর্ণ সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে এবং আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন হবে।

গত ২৫ মার্চ ‘মানবিক বিবেচনায়’ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান খালেদা জিয়া। ২৫ মাসের কারাবাসের মধ্যে এক বছর তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন বিএসএমএমইউ হাসপাতালে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে মুক্তির পর হাসপাতাল থেকে ‘ফিরোজা’য় ওঠার পর থেকে কোয়ারেন্টাইনে আছেন তিনি। বাসায় ব্যক্তিগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। এজন্য কয়েকজন চিকিৎসক নিয়মিত তাকে দেখছেন। ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়া রিউম্যাটিক আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস এবং চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন।

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে থাকায় মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন খালেদা জিয়া। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হাসপাতালগুলো অনেকটা বন্ধ থাকায় নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চিকিৎসকরা করতে পারছেন না। তাই এতদিন ধরে যে চিকিৎসা চলেছে সেটাই চিকিৎসকরা দিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য তার সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। তবে আশার কথা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থাকায় ও খাওয়া-দাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় মানসিকভাবে চাঙ্গা রয়েছেন খালেদা জিয়া।

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপিপ্রধানের হাত-পায়ের ব্যথাটা বেশি। তার শারীরিক অসুস্থতাও অনেক বেশি। তিনি হাঁটতে পারেন না। ব্যথা উপশমের জন্য গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে থেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে তার ব্যথার কিছুটা উপশম হচ্ছে। তারা জানান, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তার সুস্থতার অগ্রগতি ধীর। এজন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। তবে বাসায় আসার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে স্বস্তিবোধ করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

‘করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বিগ্ন খালেদা’: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকা দেখে খালেদা জিয়ার মন খারাপ হয়েছে। মানুষের কী হবে, তারা কীভাবে বাঁচবে, গরিব অসহায় মানুষগুলোর কী হবে, তাদের চাকরি থাকবে কি না ইত্যাদি নানা বিষয়ে উদ্বিগ্ন, এ নিয়ে তিনি চিন্তিত।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি ও পরিবার : খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় রয়েছেন চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যরা। ২৫ মার্চ খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পরদিন তার নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্য চেয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক বরাবর আবেদন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সহকারী এবিএম আবদুস সাত্তার। তবে গতকাল পর্যন্ত গুলশানের বাসভবনে পুলিশ দেওয়া হয়নি। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান দেশ রূপান্তরকে জানান, খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করতে আজ শনিবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত