শরীয়তপু‌রে ৩৪ প‌রিবার লকডা‌উনে, হোম কোয়‌রেন্টাইনে ৪ প‌রিবার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০৮:২৩ এএম

শরীয়তপু‌রের ন‌ড়িয়া উপ‌জেলায় ৩৪ প‌রিবারের ১৮৯ জন জন‌কে লকডাউ‌ন করা হ‌য়ে‌ছে। এছাড়া সদর উপ‌জেলায় ৪টি প‌রিবা‌রের ৭জন‌কে হোম কোয়া‌রেন্টাই‌নে রাখা হ‌য়ে‌ছে।

শ‌নিবার রাত পৌ‌নে ৯টার দি‌কে (মিডিয়া সেল জেলা প্রশাসন, শরীয়তপুর) এ এক ‌প্রেস ব্রি‌ফিং‌ংয়ে ‌জেলা প্রশাসক কাজী আবু তা‌হের এ তথ্য নি‌শ্চিত ক‌রেছেন।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কাজী আবু তা‌হের জানান, ন‌ড়িয়া উপ‌জেলার ডিঙ্গামা‌নিক ইউনিয়‌নে ৯০ বছ‌রের এক বৃদ্ধ গত ১ এপ্রিল (বুধবার) হৃদ‌রোগজ‌নিত সমস্যা নি‌য়ে ন‌ড়িয়া উপ‌জেলা স্বাস্থ্য কম‌প্লে‌ক্সে আসেন।

তার শারীরিক অবস্থা খারাপ দে‌খে কর্তব্যরত চি‌কিৎসক তা‌কে ঢাকা মহাখা‌লী বক্ষব্যা‌ধি হাসপাতা‌লে প্রেরণ ক‌রেন।

৪ এপ্রিল (শ‌নিবার) সকাল ১০টার দি‌কে চি‌কিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্য‌ক্তি মৃত্যুবরণ ক‌রেন। মৃত্যুর পর তার দে‌হে ক‌রোনাভাইরাস উপ‌স্থি‌তি পাওয়া যায়।

তার মর‌দেহ প‌রিবার‌কে না দি‌য়ে আইইডি‌সিআরের তত্ত্বাবধা‌নে বি‌শেষ ব্যবস্থায় দাফন করা হয়।

‌জেলা প্রশাসক আরও জানান, ওই ব্যক্তি মৃত্যুর পর ন‌ড়িয়া উপ‌জেলা স্বাস্থ্য ও প‌রিবার প‌রিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শ‌ফিকুল ইসলাম, উপ‌জেলা সহকারী ক‌মিশনার (ভূ‌মি) মো. সাইফুল ইসলাম ও নড়িয়া থানা পু‌লি‌শের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হা‌ফিজুর রহমান গি‌য়ে তার প‌রিবা‌রের ৯ জন ও আশপা‌শের ২৪টি প‌রিবা‌রের ১২৭ জন‌কে লকডাউনে রাখে। তাছাড়া সং‌শ্লিষ্ট ঘ‌ড়িসার ইউনিয়‌নের ৯টি প‌রিবারের ৫৩জন‌কে লকডাউ‌নে রাখা হয়।

এদি‌কে, শনিবার সকাল ৯টায় জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে নিপা বেগম (৩৫) নামে এক রোগীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের নিয়ে আসেন তার স্বজনরা।

মৃত ওই নারীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে। তাকে সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি করা হয়। ওয়ার্ডে নেয়ার পর তার (স্নায়ু) পাল্স না পেয়ে সেবিকারা চিকিৎসককে জানান। কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ওই রোগী সকাল সাড়ে দশটার দিকে মারা যান।

করোনাভাইরাস আছে কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হতে কর্তৃপক্ষ নমুনা সংগ্রহের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। টের পেয়ে ওই রোগীর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি জানার পর ইসলা‌মিক ফাউ‌ন্ডেশন সদর উপ‌জেলায় গঠিত ক‌মি‌টির সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্য‌মে ওই নারীর মৃত‌দেহ দাফন সম্পন্ন ক‌রে।

সদর উপ‌জেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুর রহমান শেখ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সোবাহান এবং পালং ম‌ডেল থানা পু‌লি‌শের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম উদ্দিন ওই মৃত ব্যক্তির বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। নমুনার ফলাফল না আসা পর্যন্ত ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা ৪টি পরিবারের ৭জনকে পুরোপুরি হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়ে‌ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত