করোনাভাইরাসের এই দুঃসহ দুঃসময়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা খুঁজে ফেরেন ইতিবাচক ব্যাপার। সহসা প্রাণের আনন্দে নেচে ওঠেন এই ভেবে যুদ্ধ আর হানাহানিতে ব্যবহৃত গোলাবারুদ মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ভালোবাসার শক্তি এতটাই যে তা হার মানায় সব যুদ্ধাস্ত্রকে।
তখন বুধবারের রাত শুরু হয়েছে মাত্র। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফীর ফেইসবুক প্রোফাইলে ভেসে ওঠে একটি বাক্য, ‘করোনাভাইরাস প্রমাণ করল, গোলাবারুদের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি অনেক বেশি।’
গোটা পৃথিবীজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারী রুখে দেওয়ার যুদ্ধে আসলে মানুষের শক্তি মানুষই। এই বাংলাদেশেও তাই। মাশরাফী এই লড়াইয়ে দুটি ভিনড়ব ভিনড়ব ভূমিকা পালন করছেন মানুষের পাশে দাঁড়াত। সাহায্য-সহযোগিতা আর সাহস জোগাতে। ক্রীকেটার হিসেবে দলগতভাবে একমাসের বেতনের অর্ধেকটা অনুদান দিয়ে একটা বেশ বলার মতো তহবিল গড়েছেন অন্যদের নিয়ে।
তবে সবচেয়ে বড় কাজটি তিনি করছেন নড়াইল ও লোহাগড়ায়। নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফী এই করোনাভাইরাসের সময়টায় আরও বেশি করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা দিয়েছেন এলাকার নি¤ড়ব আয়ের মানুষদের। নিজের ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে নিয়েছেন আরেকটি উদ্যোগ। এই সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিয়ে বেশ সমস্যায় আছে। তাই যে কোনো অসুস্থতায় নড়াইল ও লোহগড়ার মানুষরা ফোন করলেই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে নিজ বাড়িতে পাচ্ছেন ডাক্তার। ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা ব্যবস্থা করেছেন। নড়াইল থেকে করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে খুলনায় নমুনা পাঠানোর ব্যবস্থাও করেছেন। নড়াইল সরকারি হাসপাতালের কাজ শেষ না হলেও সেটিতে ১০ জন রোগী রাখা যায় এমন একটা ব্যবস্থাও করে রেখেছেন।
এসব করতে গিয়ে মাশরাফী মানুষের ভালোবাসা খুব অনুভব করতে পারছেন। আর ব্যক্তিগতভাবে তার এত উদ্যোগের মূলে তো ভালোবাসাই। তাই প্রচণ্ড কঠিন সময়েও ভালোবাসায় ভর করে পৃথিবী চলছে এমন উপলব্ধি তার। কারণ, মানুষদের পাশে দাঁড়াতে মানুষকেই দেখছেন তিনি। ‘লকডাউনের’ এই দিনকালে কত কত মানুষের ঘরে পৌঁছাচ্ছে খাবার তার ইয়ত্তা নেই। এমন আরও অনেক কিছু ঘটছে এই মহামারীর ভয়ংকর সময়ে। গোলাবারুদ বলুন বা যুদ্ধাস্ত্র সেসব দিয়ে কি আর এসব হতো! মাশরাফী তাই ভালোবাসার জয়গান গাইতেই পারেন।
