করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত পৃথিবী নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। নিজ দেশের সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর নেতারাও এখন দিশাহীন। তবে এ সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে যেসব দেশ সাফল্য দেখিয়েছে কাকতালীয়ভাবে সেসব দেশের অনেকগুলোতেই রাষ্ট্রপ্রধান নারী। আইসল্যান্ড থেকে তাইওয়ান, জার্মানি থেকে নিউজিল্যান্ড কিংবা ফিনল্যান্ড, নরওয়ে ও ডেনমার্কের করোনাকালীন সংকট মোকাবিলা এর উজ্জ্বল উদাহরণ। ফোর্বস অবলম্বনে লিখেছেন পরাগ মাঝি
অকপট সত্যবাদী মের্কেল
অনেকে ভাবতে পারেন, করোনা সংকট মোকাবিলায় ছোট ও দ্বীপরাষ্ট্রগুলো সাফল্য দেখিয়েছে। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল প্রমাণ করার জন্য জার্মানির মতো বড় দেশটির উদাহরণ টানা যেতে পারে। দেশটি প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে মহামারী নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকটাই এগিয়ে আছে। সে তুলনায় বর্তমান মহামারীতে বিপর্যস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাজ্য বরং অনেক ছোট এবং দ্বীপরাষ্ট্রও বটে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ইউরোপের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশগুলো হলো ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন। পরিসংখ্যানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে যে, তিনটি দেশেই মহামারীতে মৃত মানুষের সংখ্যা শিগগিরই ২৫ হাজার অতিক্রম করতে যাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এ তালিকায় নাম থাকতে পারত জার্মানিরও। কিন্তু কভিড-১৯ ভাইরাসটির ব্যাপক সংক্রমণ সত্বেও এর কারণে দেশটিতে মৃত মানুষের সংখ্যা মাত্র চার হাজারের মতো। নাগরিকদের সুচিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি দেশটি এখন প্রতিবেশী ফ্রান্সের দিকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। আর এসবই সম্ভব হচ্ছে দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব। ভাইরাসটি যখন চীনের সীমানা অতিক্রম করে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখনই মের্কেল তার দেশের নাগরিকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছিলেন, ভাইরাসটি জার্মানির ৭০ ভাগ মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। তিনি যে সময়টিতে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন, সে সময় এ ধরনের আশঙ্কার কথা অনেকের কাছেই হাস্যকর মনে হয়েছিল। জার্মানদেরও কিছুটা গা-ছাড়া ভাব ছিল। কিন্তু মের্কেল বললেন, ‘এটা সিরিয়াস। তাই সিরিয়াসলি নেন।’ তার এমন শীতল আহ্বানে নড়েচড়ে বসে জার্মানরাও। তখন থেকেই জার্মানিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা করার তোড়জোড় শুরু হয়।
অন্যান্য দেশগুলো যখন দ্বিধান্বিত, জার্মানরা তখন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়েই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এর সুফলও পেয়েছে তারা। অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশের তুলনায় জার্মানিতে মহামারী এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। শুধু তাই নয়, মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে দেশটি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যেসব কঠোর নীতি অবলম্বন করেছিল সেসব নীতি শিগগিরই শিথিল করে দেওয়ার প্রμিয়ায় আছে তারা। গত ৯ এপ্রিল জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মের্কেল জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কঠোর নীতিগুলোই তার দেশে মহামারীটির বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভাইরাসটিতে সংμমিত মানুষের সর্বশেষ সংখ্যাটি আমাদের আশার আলো দেখিয়েছে। ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে আক্রান্তের সংখ্যা। এটি আমাদের জন্য খুব খুশির খবর।’
সবার সেরা তাইওয়ানের তাসি
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নজির স্থাপন করেছে তাইওয়ান। বলা যায়, ভাইরাসটিকে মোকাবিলা করতে গিয়ে তারাই প্রম কঠোর নীতি অবলম্বন করেছিল। দেশটির প্রেসিডেন্ট তাসি ইং-ওয়েন গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর শতাধিক রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তাইওয়ান এখন করোনাযুদ্ধে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। নিজের দেশকে সুরক্ষিত করে তাসি এবার ইউরোপ ও আমেরিকায় এক কোটি মাস্ক পাঠাতে যাচ্ছেন। তাসির এমন উদ্যোগ ও সাফল্যকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।
গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকেই চীনের বাইরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। সে সময় পর্যন্ত কোনো দেশই ভাইরাসটির ভয়াবহতা সম্পর্কে আন্দাজ করতে পারছিল না। ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তাইওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়া দুটি দেশেই অন্তত চারজন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়। দুটি দেশের জনসংখ্যাও কাছাকাছি; প্রায় আড়াই কোটি। আর দুটিই দ্বীপরাষ্ট্র। এ অবস্থায় দুটি দেশই সীমান্তজুড়ে অনুপ্রবেশকারী ঠেকাতে কঠোর নজরদারি অবলম্বন করে। দুটি দেশের সঙ্গেই চীনের শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও যোগাযোগব্যবস্থা আছে। কিন্তু সেই সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত এ দুটি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তুলনামূলক চিত্রটা অবাক করার মতো। কারণ এ সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯ ভাইরাসে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার এবং এতে আμান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬৩ জন। অন্যদিকে তাইওয়ানে একই সময়ের মধ্যে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা ৩৯৫ এবং এতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা মাত্র ৬ জন। অনেকের মনে প্রশড়ব জাগতে পারে, এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার ভুলটি ছিল কোথায়? কিন্তু তাদের এটাও জেনে রাখা প্রয়োজন যে, আμান্ত ও মৃত মানুষের সংখ্যা অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও বেশি আছে বিশ্বের ৩০টিরও অধিক দেশে। তাই এ ক্ষেত্রে প্রশড়বটি হতে পারে, কীভাবে করোনাভাইরাসকে ঠেকিয়ে দিল অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও ঘনবসতির দেশ তাইওয়ান?
এ প্রশেড়বর উত্তরে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট তাসি ইং-ওয়েনের তাৎক্ষণিক ও দ্রুত সিদ্ধান্তগুলোকেই কৃতিত্ব দিতে হয়। মহামারীর ক্ষেত্রে দেশটির পূর্ব অভিজ্ঞতা তাকে এমন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়াতে শুরু করলে হংকং ও দক্ষিণ চীনের মতো তাইওয়ানও ছিল এতে সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশ। সে সময় মহামারী ঠেকানোর জন্য ছোট্ট এ দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল। আর সার্স ভাইরাসে আμান্ত হয়ে ১৮১ জনের মৃত্যু হয়েছিল সেখানে। তাই চীনের মাটিতে যখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়, তখনই সাবধানতা অবলম্বন শুরু করে দেয় তাইওয়ান। দেশটির সীমান্ত এলাকাগুলো সুরক্ষিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়। জানুয়ারির মধ্যেই দেশটির বিভিনড়ব অঞ্চলের সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন রুটিনের মতো করে মুখের মাস্ক ব্যবহার শুরু করে দেয়।
আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, করোনাভাইরাস হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন বিবেচনায় নিজ দেশে সংক্রমণের আগেই তাইওয়ানের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা ‘ন্যাশনাল হেলথ কমান্ড সেন্টার’ (এনএইচসিসি) জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করে দেয়। জনস্বাস্থ্যকে হুমকির হাত থেকে রেহাই দিতে এখন পর্যন্ত ১২৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে তাসি ইং-ওয়েনের সরকার।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, মহামারী ঠেকাতে তাইওয়ান প্রম পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছিল গত বছর ৩১ ডিসেম্বর, যখন চীনের উহানে নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে বেশকিছু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করে। করোনাভাইরাসের কথা তখন পর্যন্ত কেউই জানত না। সেদিন থেকেই চীনের উহান থেকে তাইওয়ানে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করে দেয় দেশটি। ২১ জানুয়ারিতে দেশটিতে প্রমবারের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীকে শনাক্ত করা হয়। তার পরদিনই দেশে মুখের মাস্কের দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার এবং মানসম্মত মাস্ক উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। করোনাভাইরাস সম্পর্কিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি মত দিয়েছে, চীনের বাইরে এ ভাইরাসটি যেসব দেশে সবচেয়ে বেশি আঘাত হানতে পারে তার তালিকায় তাইওয়ান ছিল সবার ওপরের দিকে। কারণ মূলভ‚মি চীনের সঙ্গে এ অঞ্চলের নিবিড় যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্পর্ক। কিন্তু ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাইওয়ান সরকার চীনের নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চল থেকে যাত্রীদের আগমন নিষিদ্ধ করে দেয়। এমনকি এ সময়ের মধ্যে দেশটির নৌবন্দরগুলোতে কোনো প্রমোদতরীকেও ভিড়তে দেওয়া হয়নি।
সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কোনো নাগরিক যদি হোম কোয়ারেন্টাইনকে উপেক্ষা করে তবে তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার নীতি অবলম্বন করা হয়। আর পুরো দেশজুড়েই করোনাভাইরাসের ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করা হয়। এমনকি কোনো কোনো নাগরিককে একাধিকবারও পরীক্ষা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো ধরনের গুজব যেন না ছড়ানো হয়, সেজন্য কঠোর শাস্তির কথা ঘোষণা করা হয়। এসব কার্যক্রমের ফলে দেশটিতে নতুন আক্রন্তের সংখ্যা এখন নেই বললেই চলে।
জেসিন্ডার তাড়াহুড়ো ও ব্যতিক্রম লকডাউন
বলা হচ্ছে, মহামারী ঠেকাতে পৃথিবীর সেরা লডডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউজিল্যান্ডে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেনের সুনিপুণ নেতৃত্বেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। দেশটিতে যখন মাত্র ছয়জন সংক্রমিত মানুষকে শনাক্ত করা হয় তখনই লকডাউনের ঘোষণা দেন জেসিন্ডা। দেশটিতে প্রবেশ করা যেকোনো মানুষের জন্য ব্যক্তিগত আইসোলেশন বাধ্যতামূলক করে দেন। এছাড়া ২০ মার্চ থেকেই দেশের মধ্যে বিদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বচ্ছতা এবং দৃঢ় সিদ্ধান্তই নিউজিল্যান্ডকে মহামারীর হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মাত্র ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০৯ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা। এ অবস্থায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশ যখন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, জেসিন্ডা সেখানে আরও সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ন্ত্রণারোপের পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
গত ৯ এপ্রিল দেশবাসীর উদ্দেশে এক বার্তায় জেসিন্ডা বলেন, ‘আমরা প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। এ ক্ষেত্রে আপনাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার অর্থ হলো আমাদের পরিকল্পনা কাজ করছে।’ দেশ বিপদ প্রায় কাটিয়ে উঠলেও সেদিন তিনি আবারও সীমান্তে আরও কড়াকড়ি আরোপের ঘোষণা দেন। সেই অনুযায়ী, যদি কোনো নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এই মুহূর্তে দেশে ফেরেন তবে তাদের নির্ধারিত কয়েকটি স্থানে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার জন্য ব্যবস্থা করেছে জেসিন্ডা সরকার। জেসিন্ডা বলেন, ‘আপনাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত একে অন্যকে রক্ষা করতে পারবে। আপনারা এটি করতে পেরেছেন এবং অনেক জীবন বাঁচিয়েছেন।
প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও ভালোবাসা যাদের হাতিয়ার
প্রধানমন্ত্রী কেটরিন জেকবসডোত্তির তত্ত্বাবধানে মহামারীর কবল থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত এখন আইসল্যান্ড। অন্যান্য দেশ যেখানে শুধু যাদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে তাদের করোনাভাইরাস টেস্ট করাচ্ছে, কেটরিন সেখানে আইসল্যান্ডের সব নাগরিকের টেস্টে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে ইতালিফেরত এক নাগরিকের মধ্যে প্রমবারের মতো কভিড-১৯ ভাইরাস শনাক্ত করেছিল আইসল্যান্ড। সেই সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৭৩৯ জনের মধ্যে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে মাত্র ৯ জনের। বলা হচ্ছে, জনসংখ্যার অনুপাতে আইসল্যান্ড যে হারে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করেছে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা করা দক্ষিণ কোরিয়ার চেয়ে তা অন্তত পাঁচগুণ বেশি। মহামারী নিয়ন্ত্রণে কেটরিনের প্রযুক্তিনির্ভরতাও অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নাগরিকদের মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় এনে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার সরকার। ফলে দেশটিতে লকডাউন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ না করেও মহামারীকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে তারা।
মহামারী নিয়ন্ত্রণে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা ম্যারিনও কৃতিত্বের দাবিদার। গত ডিসেম্বরেই তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে কম বয়সী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। করোনাভাইরাস ঠেকাতে তার পদক্ষেপটি ছিল দারুণ কার্যকর। এ ক্ষেত্রে তিনি তার দেশের সামাজিক গণমাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কাজে লাগিয়েছেন। সানা ম্যারিন জানতেন যে, সাধারণ মানুষ সরকারি বক্তব্যকে তেমন গুরুত্ব দিতে চায় না। তাদের অনেকেই পত্রিকা পড়ে না কিংবা টেলিভিশনের খবরাখবর দেখে না। কিন্তু এটা ঠিক যে, অন্যান্য দেশের মানুষের মতো ফিনল্যান্ডের মানুষরাও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিদিনই সময় কাটায়। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত ও নানা তথ্য সামাজিকমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে ফিনিস সরকার। মহামারী প্রায় কাটিয়ে উঠেছে দেশটি।
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী এরনা সোলবার্গও দারুণ এক উপায় অবলম্বন করেছিলেন। এ ক্ষেত্রে তিনি টেলিভিশনের সাহায্যে সারা দেশের শিশুদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছিলেন। এর কয়েক দিন আগে একই ধরনের একটি উপায় অবলম্বন করেছিলেন ডেনিস প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনও। তবে শিশুদের সঙ্গে সোলবার্গের প্রেস কনফারেন্স কোনো প্রাপ্তবয়স্কের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ছিল। দেশের বিভিনড়ব প্রান্ত থেকে শিশুদের বিভিনড়ব প্রশেড়বর উত্তর দিয়েছেন তিনি। ভাইরাসটির ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় নারী রাষ্ট্রপ্রধানের দেশ নরওয়ে ও ডেনমার্কের সাফল্যও চোখে পড়ার মতো।
