ফরিদপুরে বজ্রপাতে তিনজন মারা গেেেছন। এ ছাড়া কালবৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে শতাধিক বাড়ি ঘর। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সিঅ্যান্ডবি ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া গত শুক্রবার গভীর রাতে জেলার মধুখালী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে শতাধিক বাড়িঘর ও গাছপালা ল-ভ- হয়ে যায়। বজ্রপাতে নিহতরা হলেন সিঅ্যান্ডবি ঘাটের সুজন বেপারি (২৮), ডাঙ্গি গ্রামের বাবু খাঁ (৫০) ও পালডাঙ্গি গ্রামের রিপন মোল্যা (২৭)। তাদের মধ্যে রিপন মোল্যা স্থানীয় যুবলীগের নেতা বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান মিন্টু বলেন, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা সিঅ্যান্ডবি ঘাটে নৌকা পারাপার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
এ ছাড়া, মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ১৫ মিনিট স্থায়ী ঝড় পৌরসভার গোন্দারদিয়া, আলমপুর, মেছরদিয়া, গোপালপুর, মহিষাপুর, গাড়াখোলা এবং উপজেলার মেগচামী ইউনিয়নের মেগচামী, বামুন্দিকলাগাছি, রামদিয়া, রুকুনিসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম ও মহল্লার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ঝড়ে বিভিন্ন গ্রাম ও মহল্লার শতাধিক কাঁচা ও আধা পাকা ঘড়বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অপরদিকে, মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে শুক্রবার রাতে কালবৈশাখী ঝড়ে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এ সময় ধান, আম, লিচুসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আজমপুর গ্রামে বাড়িঘর বিধ্বস্ত পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
আজমপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তোবারক হোসেন মোল্লাসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঝড়ে তাদের ঘরের চাল উড়িয়ে নিয়ে যায়। অনেকের ঘরের ওপর গাছ উপড়ে পড়েছে। জীবনে তারা এমন ঝড় কখনো দেখেননি। ঝড়ে বাড়িঘর, গাছপালা ও মাঠে থাকা বোরো ধান, আম, লিচুসহ মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তারা এখন পথে বসেছেন। অনেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করেছেন।
জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, রাতে হঠাৎ এই কালবৈশাখী ঝড়ে জগদল ইউনিয়নের আজমপুর, দমদমা, রুপাটি, সৈয়দ রুপাটি ও জগদল গ্রামের কাঁচা-আধা পাকা শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আজমপুর গ্রামের বাসিন্দারা। এ গ্রামের প্রায় ৫০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। অধিকাংশ ঘরের টিন ঝড়ে উড়ে নিয়ে গেছে। অনেকের ঘরের ওপর বড় বড় গাছপালা ভেঙে পড়েছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের বাসিন্দারা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন। কালবৈশাখীর তান্ডবে শুধু বাড়িঘর নয়, মাঠে থাকা বোরো ধান, আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সাংসদ সাইফুজ্জামান শিখর ও প্রশাসন দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো পরিদর্শন করে।
