দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। মানুষ আজ করোনা আতঙ্কে আতঙ্কিত। এ আতঙ্কের কারণে দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে এক প্রকার স্থবিরতা বিরাজ করলেও থেমে নেই মাদক বাণিজ্য। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যখন করোনা মোকাবিলায় কাজ করছে সে সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আর ওই মাদক চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা ও ঢাকার জেলার সঙ্গে রূপগঞ্জ উপজেলার সরাসরি সংযোগ সড়ক রয়েছে। এ কারণে সিলেট, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদক রূপগঞ্জের গাউছিয়া, কাঞ্চন ও পূর্বাচল তিনশ ফুট সড়কের এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়ক দিয়ে ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক পাচারের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বিলাসবহুল প্রাইভেট কার অথবা পণ্যবাহী গাড়ি। মাদক ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী আনা নেওয়ার নাম করে আড়ালে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে তাদের মাদকের ব্যবসা আরও রমরমা হয়েছে।
র্যাব-১ সিপিসি-৩ পূর্বাচল ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের মধ্যেও র্যাব-১ রূপগঞ্জের এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়ক দিয়ে ঢাকা ও গাজীপুরসহ দেশের অন্যান্য জেলায় পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে। গত ৬ মে বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার মায়ারবাড়ি এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের চেকপোস্ট স্থাপন করে একটি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে ৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বেলা ১১টার দিকে কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কে একটি বিলাসবহুল জিপ গাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় মহিলা পুলিশের একটি ভুয়া আইডি কার্ডসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৩ মে বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার মায়ার বাড়ি এলাকার এশিয়ান হাইওয়ের বাইপাস সড়ক থেকে সাড়ে ৫ কেজি গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিইও) শাফি উল্লাহ বুলবুল বলেন, করোনা পরিস্থিতির সুযোগে যারা মাদকের রমরমা বাণিজ্য চালাচ্ছে তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
