ঘূর্ণিঝড় আম্পান উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার প্রেক্ষাপটে ৫১ লাখ ৯০ হাজার মানুষের জন্য ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। আম্পান মোকাবিলায় উপকূলীয় জেলাগুলোর প্রস্তুতির খবর জানিয়েছে আমাদের ব্যুরো অফিস এবং নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এনামুর ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এটি সুপার সাইক্লোনের রূপ ধারণ করবে। ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে প্রায় ৫১ লাখ ৯০ হাজার ১৪৪ জনকে আশ্রয় দেওয়া যাবে। এখন করোনা সংক্রমণের সময়, তাই প্রত্যেকটি আশ্রয়কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য বলা হয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসবেন তাদের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সিপিপি (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) ভলান্টিয়ারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা যেন আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) সকাল থেকে সংশ্লিষ্টদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনার কাজ করেন। এ কাজকে ত্বরান্বিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কাজ করবে। মঙ্গলবার রাতের মধ্যে সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬০ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন। একটি মানুষকেও যাতে প্রাণ হারাতে না হয় সে ব্যাপারে সবাইকে নির্দেশনা দিয়েছি। অন্য যেকোনো দুর্যোগের থেকে এবার সব থেকে বেশিসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রে যারা আশ্রয় নেবেন তাদের জন্য ৩ হাজার ১০০ টন চাল, ৫০ লাখ নগদ টাকা, শিশু খাদ্য কিনতে ৩১ লাখ টাকা, গোখাদ্য কিনতে ২৮ লাখ টাকা এবং ৪ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার পাঠানো হয়েছে বলে জানান এনামুর রহমান।
উপকূলীয় জেলার সিভিল সার্জনদের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ ওইসব টিম প্রস্তুত রয়েছে। সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গেলে বিকল্প ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলজিইডিকে বলা হয়েছে, যেসব অঞ্চলের লোকজনদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হবে সেসব অঞ্চলের সড়ক এবং ব্রিজে কোনো সমস্যা হলে জরুরি ভিত্তিতে তা মেরামত করতে। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে কোনো বাঁধ ভেঙে গেলে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তা নির্মাণ করবে।
ইতিমধ্যে উপকূলবর্তী সব জেলা প্রশাসককে সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে এ ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয় নেওয়ার বিষয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে। গর্ভবতী নারী, নারী, প্রতিবন্ধী ও শিশুরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাবে।
আম্পান উপকূলের দিকে ধেয়ে আসতে থাকায় গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরে জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা অ্যালার্ট-৩। জেটিতে থাকা জাহাজগুলো থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ চললেও বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস কমে গেছে। তবে বন্দর থেকে ডেলিভারি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। গতকাল বিকেল থেকে মোংলা বন্দরে অবস্থান নেওয়া জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মোংলা বন্দরে বর্তমানে সার, ফ্লাই অ্যাশ, কয়লাবাহীসহ মোট ১৪টি দেশি-বিদেশি জাহাজ অবস্থান করছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনার ৩৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ জনকে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৫১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ মানুষ এ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে পারবে।
