ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে ‘ডাউন মেমোরি লেন’

আপডেট : ২১ মে ২০২০, ০৭:৫৭ এএম

‘অনেক দিন পর সবার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল। তোমরা সবাই তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছ, হা হা হা!’ ওয়াসিম আকরাম হাসিটা মুখে রেখে ওই কথার পর একটু বিরতি দিয়ে যোগ করেন, ‘শুধু তামিম ছাড়া।’

বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফেইসবুক-ইউটিউব লাইভ শোতে মঙ্গলবার রাতের চমক ছিলেন ওয়াসিম আকরাম। ইতিহাসের সেরা বাঁহাতি ফাস্ট বোলার শোয়ের মাঝখানে কিছুক্ষণের জন্য যোগ দেন। প্রায় সোয়া ঘণ্টার আসরের প্রায় পুরোটা জুড়ে ছিল ‘ডাউন মেমোরি লেন’। নস্টালজিক হয়ে ওঠা আলোচনা আর আড্ডার মূলে ছিলেন বাংলাদেশের তিন সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নানড়বু, আকরাম খান ও খালেদ মাসুদ পাইলট। ভিনড়ব প্রজন্মের তামিম সাবেকদের নিয়ে যেন টাইম মেশিনে ট্রাভেল করে এলেন লাখো দর্শককে সঙ্গী করে।

ওই কিংবদন্তিদের ওপর ভর করে ধীরে ধীরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট। তাদের প্রতি তো তামিমের কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ছিলই, ওয়াসিম যোগ দিলে তাকে শুরুতেই জানিয়ে দিলেন, ‘আপনি খেলোয়াড়ি জীবনে কিংবা পরে ধারাভাষ্যের জীবনে সব সময় বাংলাদেশকে বড় সমর্থন দিয়ে এসেছেন। এজন্য আপনাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’

¯িঙঊন শেয়ারিংয়ে ছিলেন ৫ জন। তামিমের প্রশেড়বর জবাবে ওয়াসিম ছাড়া বাকি তিনজনকে কতটা কাছ থেকে চেনেন তা বোঝাতে গিয়ে বাংলাদেশকেই মিস করার কথা বলে যান, ‘ওদের সবার সঙ্গে অনেক খেলেছি আমি। বাংলাদেশে আবাহনীতে খেলার সময় এদের সঙ্গে কিংবা বিপক্ষে খেলেছি। মাঠের বাইরে তারা আমার ভালো বন্ধু। বাংলাদেশে আসাটা মিস করছি এখন। বাংলাদেশ সব সময়ই আমার হৃদয়ের খুব কাছে অবস্থান করে।’ এর সঙ্গে অতীতের ঘুরে এসে বর্তমানে ফিরে ওয়াসিম বললেন, ‘এই যে মানুষগুলো, ওদের ফিল্ডিং কিন্তু তত ভালো ছিল না। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ দল ফিল্ডিংয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।’

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্ব অঙ্গনে আলোচিত ছিল না। সেই সময়ে বাংলাদেশের লিগে আবাহনীর হয়ে খেলতে আসার কারণ ব্যাখ্যায় ওয়াসিম জানিয়ে গেলেন তার বিস্ময়ের কথা, ‘আমি আসলে বাংলাদেশে ক্রিকেট কেমন আগ্রহ তা দেখতে চাচ্ছিলাম।’ এর সঙ্গে অভিজ্ঞতা থেকে যোগ করেন, ‘এমনকি পাকিস্তানেও বাংলাদেশের এই আবাহনী- মোহামেডানের মতো ক্লাব নেই। ফুটবল, হকি, ক্রিকেটে কী উন্মাদনা (ক্লাব দুটোর মধ্যে)! এরপর প্রম ম্যাচ খেলতে নেমেই স্টেডিয়ামে টইটম্বুর দর্শক আর তাদের মাতামাতি দেখে চমকে গিয়েছিলাম!’

প্রমবার বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েই ১৯৯৯-এ ইংল্যান্ডে পাকিস্তানকে হারিয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়াসিম ছিলেন সেই পাকিস্তান দলের অধিনায়ক। তখন বাংলাদেশ দলে ভিনড়ব কী দেখেছিলেন? তামিমের এই প্রশেড়বর জবাবে ওয়াসিম বলেন, ‘ক্রিকেট বোধের দিক থেকে বললে সেই ম্যাচে বাংলাদেশ সেরা দল হিসেবেই জিতেছিল। তারা ভালো বল করেছিল। তারা আসলে সেদিন সবদিক থেকে আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছিল।’

কথা সামনে এগোয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের আকরাম পাকিস্তানের আকরামকে প্রশড়ব করেন ‘ওয়াসিম ভাই, আপনার কি ’৯৫ সালে শারজার এশিয়া কাপের কথা মনে আছে? সামান্যই মনে আছে জানালে বিগম্যান আকরাম খান মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের আগে খুব গরম ছিল। ‘আকরাম, টসে জিতলে তুমি কী করবে?’ ম্যাচের বেশ আগে ওয়াসিমের প্রশেড়বর জবাবে আকরাম বলেছিলেন, ‘ফিল্ডিং নেব।’ তখন ওয়াসিম বলেছিলেন, ‘ওকে। খুব গরম আজ। ওয়ার্মআপ করব না।’ আকরাম বলছিলেন, কিন্তু ম্যাচে টস জিতে নানড়বুর বুদ্ধিতে ব্যাটিং নেন, ‘তখন আপনি ড্রেসিং রুমে এসে আমাকে (হুমকি দিয়ে) বলেন, আকরাম আসো দেখি। তোমাকে আমি দেখে নেব।’ সবার হাসির মধ্যে ওয়াসিম বলেন, ‘আমার মনে আছে।’ আকরাম বলেন, ‘কী যে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম ভাই!’

ওয়াসিম যখন কথার ইতি টানছিলেন তখন তামিম বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান যে আপনাকে খেলা লাগছে না।’ তবে ওয়াসিম বিরাট এক প্রশংসা দিয়ে যান সাকিব আল হাসান-তামিমকে, ‘এই লড়াইটা খুব জমতে পারত। বিশেষ করে তোমার ও সাকিবের সঙ্গে। বাঁহাতি হিসেবে যুদ্ধটা জমত।’

তামিম আরও মজা জমিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি খুশি যে বাড়ি বসে আছি। আপনাকে খেলা লাগছে না।’

বাংলাদেশের চারেই জমে উঠেছিল সব। ওয়াসিম কিছুক্ষণের জন্য এসে তাতে দিয়ে যান পরিপূর্ণতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত