সাংবাদিক সুশান্তের বিরুদ্ধে সভার সিদ্ধান্ত প্রচার

হবিগঞ্জ পূজা কমিটির সভাপতি সম্পাদক বহিষ্কার

আপডেট : ০২ জুন ২০২০, ০৬:৩৪ এএম

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় কারান্তরীণ দৈনিক আমার হবিগঞ্জের সম্পাদক সুশান্ত দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে সভা ও সিদ্ধান্তবলি প্রচার করায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হবিগঞ্জের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সংগঠন দুটির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত স্বাক্ষরিত চিঠি সংগঠনের হবিগঞ্জ জেলার সভাপতি জগদীশ চন্দ্র মোদক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট স্বরাজ রঞ্জন বিশ্বাসের কাছে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, গত ৩০ মে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হবিগঞ্জ শাখার ‘কথিত সভা ও সিদ্ধান্তবলি’ কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সভা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে নানা অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। সুশান্ত দাশের পত্রিকা, অনলাইন বা ফেইসবুকে সংখ্যালঘু ও এমপি আবু জাহিরকে জড়িয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ হয়নি। ভিন্ন সংবাদ পরিবেশনের কারণে সুশান্ত কারাগারে রয়েছেন। এর সঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো বিষয় জড়িত নয়। এমতাবস্থায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভা ও সিদ্ধান্ত সর্বতোভাবে অবাস্তব, অযৌক্তিক ও অবান্তর বলে কেন্দ্রীয় কমিটি মনে করে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণœ হয়েছে। এমতাবস্থায় সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৭(ঙ) (২) ধারামতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি, কমিটির সদস্য জগদীশ চন্দ্র মোদক ও সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট স্বরাজ রঞ্জন বিশ্বাসকে সাসপেন্ড (বহিষ্কার) করা হলো। একই সঙ্গে তাদের সদস্যপদ থেকে কেন স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না সাত দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর জন্য চিঠিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জির যৌথ স্বাক্ষর থাকা এক চিঠিতে সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট নলিনী কান্তি রায় নিরু ও সাধারণ সম্পাদক শংখ শুভ্র রায়কে একই অভিযোগ এনে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের সদস্যপদ কেন স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হবে না তা সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুশান্ত দাশগুপ্ত গত পহেলা বৈশাখ দৈনিক আমার হবিগঞ্জ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যায় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংসদ আবু জাহির, ত্রাণের চাল আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত জেলার কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ছাত্রলীগ নেতাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়।

গত ২০ মে রাত সোয়া ১২টায় হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সায়েদুজ্জামান জাহির বাদী হয়ে হবিগঞ্জ থানায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ সম্পাদক ও প্রকাশক সুশান্ত দাশগুপ্ত, নির্বাহী সম্পাদক নুরুজ্জামান মানিক, বার্তা সম্পাদক রায়হান উদ্দিন সুমন ও প্রতিবেদক তারেক হাবিবের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। তিনি হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের ‘আজীবন সদস্য’ ও সাংসদ আবু জাহিরের বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ করেন এ মামলার এজাহারে। এরপর গত ২১ মে ভোর ৬টায় হবিগঞ্জ থানার পুলিশ সুশান্ত দাশগুপ্তকে গ্রেপ্তার করে। আর অন্য সাংবাদিকরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় দেশ-বিদেশে সমালোচনা চলছে। গত ২৭ মে হবিগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে সুশান্ত দাশের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। বিবাদীপক্ষ জেলা ও দায়রা জজ কোর্টে জামিন আবেদন করেছে বলে জানা গেছে।

গত ৩০ মে জেলার কালীবাড়িতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান পরিষদ ও পূজা উদযাপন কমিটির হবিগঞ্জ জেলা শাখার এক সভা হয়। তারা সাংসদ আবু জাহিরের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগে সুশান্ত দাশের শাস্তি ও দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকা বন্ধের দাবি করেন। এদিকে গতকাল সকালে সাংসদ জাহিরের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করার প্রতিবাদে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট হবিগঞ্জ শাখা ও সচেতন নাগরিক সমাজ নামে দুটি সংগঠন মানববন্ধন করেছে। বক্তারা সুশান্তের দৈনিক আমার হবিগঞ্জের ডিক্লারেশন বাতিলের দাবি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত