কক্সবাজারে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ অবস্থায় কক্সবাজার পৌরসভাসহ জেলার কয়েকটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সেসব এলাকায় আগামী ১৪ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন। এসব এলাকায় আজ শনিবার (৬ জুন) থেকে ১৯ জুন (শুক্রবার) পর্যন্ত লকডাউন বলবৎ থাকবে।
এ পর্যন্ত জেলায় ৮৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৫০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর মারা গেছেন ১৮ জন। ঝুঁকিতে রয়েছে ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ইতিমধ্যে একজন রোহিঙ্গা মারা গেছেন ও ৩৪ জন চিকিৎসাধীন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও করোনাসংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক মো. আশরাফুল আফসারের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, শুধু কক্সবাজার পৌরসভায় ২৭৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন রয়েছেন। এরই মধ্যে পৌর এলাকায় করোনায় মারা গেছেন ১০ জন।
সভায় জানানো হয়, করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলাকে তিনটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলাকে ইউনিয়নভিত্তিক ও চারটি পৌরসভা ওয়ার্ডভিত্তিক বিন্যাস করে ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এসব এলাকায় ৬ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত লকডাউন প্রাথমিকভাবে বলবৎ থাকবে। প্রয়োজন হলে পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে সময় আরও বাড়ানো হবে। এ সময়ে কক্সবাজার পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ৩০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। তাদের কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও মাহমুদ উল্লাহ মারুফ পরিচয়পত্র ইস্যু করবেন।
ভিডিও কনফারেন্সে এ সভায় আরও জানানো হয়, লকডাউন চলাকালে শুধু স্বেচ্ছাসেবক ও ইমার্জেন্সি কাজের লোকজন ছাড়া অন্য কেউ বাড়িঘর থেকে কোনো অবস্থাতেই বের হতে পারবেন না। পৌর এলাকায় যাদের বাড়ির বাইরে পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রতি সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার সীমিত সময়ের জন্য কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দোকান খোলা যাবে। সে সময় স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর মনিটরিং থাকবে। সপ্তাহের অন্যান্য সময় সব মার্কেট, শপিং মল, দোকান ও কাঁচাবাজার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
কক্সবাজার পৌর এলাকায় অবস্থিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও প্রতি সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে আরও জানানো হয়, কোনোপ্রকার গাড়ি লিংক রোড থেকে পশ্চিম দিকে শহরে আসতে পারবে না। শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালেও প্রবেশ করতে পারবে না। লিংক রোড থেকেই সব গাড়ি ছেড়ে যাবে ও সেখানে এসে থামবে। জেলায় কর্মরত এনজিওগুলোর কোনো গাড়িও লিংক রোড থেকে পশ্চিমে শহরে আসতে পারবে না। কর্মকর্তাদের লিংক রোডে গাড়ি রেখে অফিস করতে হবে। জেলার বাইরের কোনো লোককে এ দুই সপ্তাহ শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের ব্যাপারে সভায় জানানো হয়, গণমাধ্যমকর্মী, সংবাদ সংগ্রহকারী, ক্যামেরাম্যান ও সংশ্লিষ্টদের কক্সবাজার প্রেস ক্লাব কর্র্তৃপক্ষের ইস্যু করা পরিচয়পত্র নিয়ে চলাচল করতে হবে। ওই পরিচয়পত্র নিয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা সংবাদ সংগ্রহ ও ভিজিলেন্স টিমের সঙ্গে থাকতে পারবেন।
সভায় আরও জানানো হয়, শহরের মসজিদগুলোতে কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশিত সংখ্যার বেশি মুসল্লি জামাতে অংশ নিতে ও মসজিদে যেতে পারবেন না। এসব নির্দেশনার বিষয়ে কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিস, পৌরসভা, সদর উপজেলার ইউএনও এবং পৌর আওয়ামী লীগ শুক্রবার (গতকাল) পুরো শহরে মাইকিং করবে।
