জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী আশনা হাবিব ভাবনা। গতকাল নতুন চলচ্চিত্রের খবর দিয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন আল মাসিদ
নতুন সিনেমা...
আমার নতুন চলচ্চিত্রের নাম ‘মিরর’। এ পর্যন্ত তিনটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি। ‘ভয়ংকর সুন্দর’, ‘বর্ষা’ ও ‘একা’। তিনটির নির্মাতাই অনিমেষ আইচ। তবে এবার নির্মাতার ক্ষেত্রে চমক থাকছে। আর একটা কথা বলতে চাই, আমার কাছে চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য কতটুকু তা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গল্প বলার ধরনই একটি ফিকশনকে সিনেমা বা নাটক করে তোলে। যেমন, ‘ভয়ংকর সুন্দর’ ছাড়া বাকি দুটি চলচ্চিত্র স্বল্পদৈর্ঘ্যরে। ‘মিরর’ও তেমন একটি কাজ হতে যাচ্ছে। এখন এটি নিয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে নতুন কিছু দর্শকদের উপহার দিতে পারব, এটা বলতে পারি।
করোনাকালে অভিনয়...
‘করোনা’ নিয়ে ঈদে দীপ্ত টিভিতে সাতটি ২০ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রচার হয়েছে। এগুলো নির্মাণ করেছেন অনিমেষ আইচ, নূরুল আলম আতিক, গিয়াসউদ্দিন সেলিম, সুমন আনোয়ার, শিহাব শাহীন, শাফায়েত মনসুর রানা ও গৌতম কৈরীর মতো জনপ্রিয় নির্মাতারা। সিরিজটির নাম ‘ঘরবন্দি সময়ের গল্প’। আমি অনিমেষ আইচের নির্দেশনায় ‘একা’ নামের গল্পটিতে অভিনয় করেছি। আমার সহশিল্পী ছিলেন রুনা খান ও শতাব্দী ওয়াদুদ। একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে কাজটি করতে গিয়ে। যার যার জায়গা থেকে আমরা কাজটি করেছি। শ্যুটিং হয়েছে মোবাইল ক্যামেরায়। এভাবে তো আগে কখনো কাজ করিনি। তবে আমাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে। যারা কাজটি দেখেছেন তারা খুব প্রশংসা করেছেন। এখন কাজটি দেখা যাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বায়োস্কোপে।
ছবি আঁকা...
আমি কোনোদিন এভাবে ছবি আঁকব, এটা কখনো ভাবিনি। কথায় আছে না ‘লাইফ ইজ ফুল অব মিরাকেল’। আমার জীবনে এটা বেশিই ঘটে। মনে হচ্ছে একটা ঘোরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। মেকাপ ব্রাশ, মেকাপের রং তো আমার সবচেয়ে কাছের জিনিস। কিন্তু সেই রং ছাড়িয়ে রং, তুলি আর ক্যানভাসের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেব তা স্বপ্নেও ভাবিনি। এখন প্রতিদিন কোনো না কোনো ছবি আঁকছি আমি। করোনা না এলে হয়তো এত আগে আঁকতে শুরু করতাম না। কিন্তু আমার মনে হয়, কোনো এক দিন হয়তো ঠিকই রংতুলিতে নিজেকে খুঁজে নিতাম। কারণ ছোটবেলা থেকে আর্ট কালচারের চর্চা দেখেই বড় হয়েছি। বাবার অনেক বন্ধু চিত্রশিল্পী। ছোটবেলায় বেসিকটা আমিও শিখেছিলাম। স্কুলে কোনোদিন চারুকলায় পঞ্চাশ নম্বরে ঊনপঞ্চাশ পাইনি। মানুষ ভাবে আমি বিদেশে গেলে হয়তো শুধু ব্র্যান্ডের পোশাক আর মেকাপ আইটেম কিনি। কিন্তু এটা অনেকেই জানে না যে, আমি যেখানেই যাই সে দেশের আর্ট গ্যালারি ও থিয়েটারে যেতেই হবে। বিশে^র অনেক বড় চিত্রশিল্পীর এক্সপেনসিভ পেইন্টিং আমার কালেকশনে আছে। তবে ছবি আঁকা চালিয়ে যেতে সবচেয়ে উৎসাহ পেয়েছি ফেইসবুকের বন্ধুদের প্রশংসার জন্য। সাংবাদিকরা আমার আঁকা ছবি নিয়ে বিশাল সব কভারেজ দিয়েছেন। এখন আমার বাসার টেরেসে আসা কাকদের নিয়ে একটি সিরিজ করছি ‘প্রতিবেশ’ নামে। সেই সিরিজটি প্রশংসা করেছেন কলকাতার কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী তনুশ্রী শংকর।
